Home » » বড়পুকুরিয়ায় দেশী ও বিদেশী কর্মকর্তা কর্মচারীরা অবরুদ্ধ ॥ পাল্টাপাল্টি মামলা

বড়পুকুরিয়ায় দেশী ও বিদেশী কর্মকর্তা কর্মচারীরা অবরুদ্ধ ॥ পাল্টাপাল্টি মামলা

আফজাল হোসেন,ফুলবাড়ী প্রতিনিধি,চিলাহাটি ওয়েব : পার্বতীপুরের বড়পুকুরিয়ায় শ্রমিক ও গ্রামবাসীদের দাবির নিয়ে আন্দোলনের ফলে খনির কর্মকর্তা কর্মচারীসহ প্রায় ৩শ’ বিদেশীসহ ১০ দিন ধরে অবরুদ্ধ হয়ে আছে। শ্রমিকদের দাবি নিয়ে কনি কর্তৃপক্ষের সাথে শ্রমিকদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দু’পক্ষের পাল্টাপাল্টি মামলা করে। এতে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির সব রকম কার্যক্রম অচল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির স্থানীয় শ্রমিক ও বহিরাগত লোকজন কর্তৃক খনির কর্মকর্তাদের মারপিটের ঘটনায় কয়লা খনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী আলহাজ্ব হাবিব উদ্দিন আহাম্মদ আন্দোলনকারীদের অমানবিক আচরণ ও মারপিটের ঘটনায় গত ১৭ মে সংবাদ সম্মেলন করেন। গত ১২ মে থেকে ১৫ মে ২০১৮ ইং তারিখ পর্যন্ত খনির শ্রমিকরা অযৌক্তিক আন্দোলন করে আসছেন। গত ১৩মে থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি শুরু করে ধর্মঘট করেন। এতে কয়লা খনির সমস্ত কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। গত ১৫মে সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে বিসিএমসিএল এর কর্মরত কয়েকজন কর্মকর্তা মেইন গেইট দিয়ে অফিসে আসার সময় আন্দোলনরত শ্রমিকেরা জীবননাশের জন্য মারধর করতে উক্ত গেইট থেকে বেশ কয়েজন কর্মচারীকে বাহিরে নিয়ে যায়। খনির কতিপয় কর্মকর্তা অফিসে যাওয়ার সময় তাদের আর্ত-চিৎকার শুনে তাদেরকে উদ্ধার করতে গেলে ঐ এলাকার স্থানীয় মো. মিজানুর রহমান মিজান গংদের সাথে ও শ্রমিকদের সাথে সংঘর্ষ বাঁধে। এতে শ্রমিকদের লোকজনের হাতে থাকা লাঠিসোটা, ইটের টুকরা ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তারা বহিরাগত লোকজনকে নিয়ে খনির কর্মকর্তা কর্মচারীদের উপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং কর্মকর্তা কর্মচারী গণকে উপর্যুপরি ও এলোপাথাড়ি মারপিট করতে থাকে। পুলিশ ও আনসারদের সহযোগীতায় আহত কর্মকর্তা কর্মচারীদেরকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ফুলবাড়ী ও দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। তাদের হামলায় কোম্পানির মহাব্যবস্থাপক (প্লানিং এন্ড এক্সপ্লোরেশন) ও প্রকল্প পরিচালক এ. বি. এম কামরুজ্জামানসহ ২০ জন কর্মকর্তা আহত হয়। তাদের মধ্যে ৫ জনের অবস্থা খুবই গুরুতর। গত১৭ই মে বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে খনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী হাবিব উদ্দিন আহাম্মেদ আহতের কথা সংবাদ সম্মেলনে জানান। খনিতে কর্মকর্তা কর্মচারী ও তাদের পরিবার পরিজনসহ বিদেশী প্রায় ৩০০ জন নাগরিক অবস্থান করছে। তারা ১২ মে থেকে খনির ভিতরে অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। কর্মকর্তা কর্মচারীদের কোন ছেলে মেয়ে স্কুল কলেজে অবরোধের কারনে যেতে পারছেনা। খনি কর্মকর্তা কর্মচারীদের অবরুদ্ধকারীরা খনি এলাকার ভিতরে পুলিশ পাহারায় খাদ্য, ঔষধসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে যাচ্ছেন। গত ১৭ই মে বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে খনিতে কর্মরত শ্রমিকদেরকে তাদের কর্মস্থলে যোগদানের আহবান জানিয়েছিলেন। কিন্তু তারা যোগদান করেননি। ঐ দিন সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, যারা আহত হয়েছিলেন তাদের অবস্থা অত্যন্ত গুরুতর।তাদের পরিবার কে শুধু ভাল আছে,সুস্থ আছে এ খবরই শুধু জানানো হয়েছিল। সেই দিনের ঘটনায় কয়েকজন কর্মকর্তা তাদের সহকর্মী উদ্ধারের জন্য প্রধান গেটে আসলেই আন্দোলনকারীরা কোন কথা না শুনে তারা লাঠিসোটা নিয়ে হামলা করে। এতে খনিতে কর্মরত ২০ জন কর্মকর্তা আহত হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘাত এড়ানো সহ খনি এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে খনির বিভিন্ন এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এদিকে ঐ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে খনির ব্যবস্থাপক সৈয়দ ইমাম হাসান, বাদি হয়ে বড়পুকুরিয়া শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি রবিউল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান, সাবেক সভাপতি ওয়াজেদ আলী, খনি এলাকার মসিউর রহমান বুলবুল আন্দোলনকারীর নেতা মিজানুর রহমান সহ ৫০ জন, অজ্ঞাত আরো ৭০ জন কে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। এদিকে গত ২০শে মে রবিবার বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান বাদি হয়ে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির মহাব্যবস্থাপক জি.এম (পিএ্যান্ডবি) ও মহাব্যবস্থাপক জি.এম প্রশাসন মোঃ আবুল কাশেম প্রধানীয়াসহ ১৪ জনকে আসামি করে দিনাজপুর আদালতে মামলা দায়ের করেন। অপরদিকে গতকাল ২১শে মে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনিতে প্রশাসন ও খনি শ্রমিকদের মধ্যে বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি।
শেয়ার করুন :