Home » » কীটনাশকের বিকল্প হিসাবে কৃষিতে পরিবেশ বান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার

কীটনাশকের বিকল্প হিসাবে কৃষিতে পরিবেশ বান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার

চিলাহাটি ওয়েব ডটকম MD. RONY ISLAM : Wednesday, May 16, 2018 | 5:36:00 PM

রনি ইসলাম, দেবীগঞ্জ প্রতিনিধি, চিলাহাটি ওয়েব : পঞ্চগড় জেলার চিলাহাটি ইউনিয়নে এলজিএসপি-৩ প্রকল্পের বরাদ্দ হতে এবং ইউনিয়ন পরিষদের সহযোগীতায় পরিবেশবান্ধব ও কম খরচে এ প্রযুক্তি ব্যবহারের কারণে কৃষি ক্ষেতে রোগ বালাই ও পোকা দমনের জন্য "আলোর ফাঁদ" স্থাপন। 
এলাকার কৃষকরা বলেছেন, পরিবেশবান্ধব ও কম খরচের এ প্রযুক্তি ব্যবহারের কারণে ধানে ক্ষেতে পোকার আক্রমণ দেখা দেয়নি। দেবীগঞ্জ উপজেলার চিলাহাটি ইউনিয়নের দায়িত্বরত উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা হরিদাশ বর্মণ ও মোঃ আসাদুজ্জামান “আলোর ফাঁদ” সর্ম্পকে বলেন, সন্ধ্যার পর ক্ষেতের পাশে অথবা আইলে ফাঁদ হিসেবে বাতি জ্বালানো হয়। 
বাতির নিচে একটি পাত্রে রাখা হয় সাবান, ডিটারজেন্ট অথবা কেরোসিন মেশানো পানি। ওই পানিতে পোকামাকড় বসলে বা পড়লে আর উঠতে পারে না। এরপর ফসলের জন্য ক্ষতিকর পোকা শনাক্ত করা হয়। কীটনাশক ব্যবহার করতে হবে কিনা তার পরার্মশ দেওয়া হয়। তিনি আরও বলেন, চলতি মৌসুমে প্রায় ৫০ একর জমিতে পোকামাকড় দমনের সুযোগ হচ্ছে। রোগবালাই ও পোকামাকড় থেকে চলতি মৌসুমে ফসল রক্ষায় ইউনিয়নের ৩টি ব্লকে ২০ টি “আলোর ফাঁদ” স্থাপন করা হয়েছে। 
এর ফলে প্রায় ২০০ জন কৃষক এবং তাদের পরিবার উপকৃত হচ্ছে বলে মতামত প্রকাশ করেন। প্রযুক্তির ব্যবহারের কারণে কৃষিতে কীটনাশকের ব্যবহার কমে গেছে। 
উপকাভোগী কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে ৫০ একর জমিতে বোরো মৌসুমে কীটনাশকের জন্য প্রায় ১,৫০,০০০/- টাকা খরচ হতো। প্রযুক্তির ব্যবহার করে বর্তমানে খুব অল্প খরচে কীটনাশক দমন করা সম্ভব হচ্ছে। এই প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে এলাকায় অনেক তোল পার শুরু হয়েছে। 
এবার যে এলাকায় “আলোর ফাঁদ” স্থাপন করা হয়েছে ঐ এলাকায় বোরো মৌসুমে ধানে পোকার আক্রমণের সংখ্যা কম হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা। 
ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এলজিএসপি-৩, প্রকল্পের আওতায় কৃষি খাতে স্থাপন করা পরিবেশবান্ধব ও কম খরচের “আলোর ফাঁদের” মাধ্যমে ফসলকে রোগবালাই থেকে রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে মতামত প্রকাশ করেছেন ইউপি চেয়ারম্যান কামাল মোস্তাহারুল হাসান (নয়ন)। 
পঞ্চগড় জেলার ডিস্ট্রিক ফ্যাসিলিটেটর মো. শফিকুল আলম ও ইউপি চেয়ারম্যান কামাল মোস্তাহারুল হাসান (নয়ন)  ৩ টি ওয়ার্ডে স্কীম পরিদর্শন করে এসে চিলাহাটি ওয়েব ডট কমকে জানান, কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুসারে কাজ করে ইউনিয়নে পোকার আক্রমণে ফসল রক্ষা হয়েছে । এই প্রকল্প দেওয়ায় চিলাহাটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাহেবকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি।
ডিস্ট্রিক ফ্যাসিলিটেটর মো. শফিকুল আলম চিলাহাটি ওয়েব ডট কমকে আরো বলেন জেলার প্রত্যেক ইউনিয়নে এই প্রকল্প দেওয়ার জন্য সকল ইউপি চেয়ারম্যান অবগত করবেন বলে মতামত প্রকাশ করেন।
পোকার আক্রমণ হয়নি, ভালো ফলনও হয়েছে। ইউনিয়ন কৃষি কর্মকর্তা হরিদাশ বর্মণ ও মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন, কৃষি বিভাগ নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে গুরুত্ব দিয়েছে। তাই কীটনাশকের ব্যবহার কমিয়ে “আলোর ফাঁদে” পোকা দমনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। 
নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন করে কৃষক আরও বেশি লাভবান হবেন বলে আশা করেছেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল মোস্তাহারুল হাসান (নয়ন)।
শেয়ার করুন :