Home » » ডিমলায় কালবৈশাখী ঝড়ে বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি

ডিমলায় কালবৈশাখী ঝড়ে বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি

চিলাহাটি ওয়েব ডটকম News Editor : 14 May, 2018 | 2:26:00 AM

মাজহারুল ইসলাম লিটন,ডিমলা প্রতিনিধি,চিলাহাটি ওয়েব : বয়ে যাওয়া কাল বৈশাখী ঝড়ে নীলফামারীর ডিমলায় উপজেলা বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ৯টা থেকে আধা ঘন্টাব্যাপী চলা এই ঝড়ে উপজেলার ৩টি ইউনিয়নের ৭শ ৫০ হেক্টর জমির উঠতি বোরো ধান, ২শ হেক্টর ভুট্টা, বাদাম ও মরিচ ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে। এ সময় অসংখ্য ঘরবাড়ি ও গাছপালা বিদ্যুতের খুটি উপড়ে পড়ে ডিমলায় গত ৩ দিন থেকে বিদ্যুত বিচ্ছিন্ন রয়েছে পুরো উপজেলা ডোমার বিদ্যুত আবাসিক কেন্দ্রে থেকে জানানো হয়েছে বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করতে আরো ৪-৫ দিন সময় লাগবে। ডিমলা উপজেলার নাউতরা ইউনিয়নের সাতজান গ্রামে কালবৈশাখী ও শীলাবৃষ্টির কারনে ধান নষ্ট হওয়া দেখে একজন কৃষক হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। তার পরিবারের দাবী নিজের আবাদ করা ধান ক্ষেতের ক্ষতি সহ্য করতে না পেরে শুক্রবার সকালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ডিমলা উপজেলার নাউতারা ইউনিয়নের সাতজান গ্রামের কৃষক জ্যোতিন্দ্রনাথ রায় (৬৫) মারা গেছে। তিনি ৬ বিঘা জমিতে ধান চাষ করলেও শীলাবৃষ্টি ও ঝড়ের কারনে ধান সব মাটিতে ঝড়ে পরে। ডিমলা উপজেলার ঝুনাগাছ চাঁপানী ইউনিয়নের উত্তর ঝুনাগাছ গ্রামের কৃষক আবুল হোসেন জানান, তার ৭ বিঘা জমির উঠতি বোরো ধান বলতে কিছু নেই জমিতে শুরু ধানের গাছ কিভাবে এই ক্ষতি পুষিয়ে নিবো। একই এলাকার কৃষক আবুজার রহমান বলেন, বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋন ও দোকান থেকে সার বীজ বাকি নিয়ে ৫ বিঘা জমিতে ধানের আবাদ করলেও কালবৈশাখি ঝড় তাদের পথে বসিয়েছে। স্ত্রী সতœানসহ ৮জনে কিভাবে চলবে বলে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। শত শত কৃষক করুন পরিনতিতে পড়েছে। ঝুনাগাছ চাপানি ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুর রহমান বলেন, কালবৈশাখি ঝড়ের কারনে তার ইউনিয়নের ২৫০ হেক্টর রোপা আমনের সম্পুর্ন ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। কৃষকগন ধার দেনা করে ধান চাষ করলেও তাদের মাথার হাত পড়েছে অনেকে আর ঘুরে দাড়াতে পারবেন না। এয়াড়া উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়নের মধ্যম সুন্দর খাতা,শান্তির বাজার,উল্টর সুন্দর খাতায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আবুল কালাম আজাদ জানান, জেলার ডোমার উপজেলার ৯টি, ডিমলা উপজেলার তিনটি ও জলঢাকা উপজেলার ১০টি ইউনিয়নসহ ২২ ইউনিয়নের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। প্রাথমিক এক হিসাবে কাল বৈশাখী ঝড়ে প্রায় ১৭ হাজার ৭০৫ হেক্টর ফসলি জমি আক্রান্ত হয়েছে। এরমধ্যে সম্পুর্ন ক্ষতি হয়েছে ১২হাজার ৩৬ হেক্টর জমির ফসল। এর মধ্যে উঠতি বোরো ধান ৯হাজার ২৯৮ হেক্টর, আউশ ধান ৯১ হেক্টর, পাট এক হাজার ৮৩৬ হেক্টর, বাদাম ১২০ হেক্টর, ভুট্টা ৪৭৮ হেক্টর, শাক-সবজি ২১৭ হেক্টর, মরিচ ২৩ হেক্টর ও মুগ ডাল ৩ হেক্টর। ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুন নাহার বলেন, কালবৈশাখীর ঝড়ে ডিমলা উপজেলার কৃষিখাতে সীমাহীন ক্ষতিসাধিত হয়েছে ৩টি ইউনিয়নের ৭শ ৫০ হেক্টর ধান ও ২শ একর ভুট্টা বিনষ্ট হয়ে গেছে। তিনি বলেন, যে মুহুর্তে জমি থেকে ধান ঘরে তোলার সময় সেই সময় এই কালবৈশাখী সব কিছু তছনছ করে দিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকা তৈরী করতে কৃষি বিভাগকে বলা হয়েছে। যারা আহত হয়েছে তাদের তাৎক্ষনিক আর্থিক সাহায্য করা হয়েছে।
শেয়ার করুন :