Home » » বদরগঞ্জে কর্তনের অপেক্ষায় ১০ কোটি লাখ টাকার মূল্যবান গাছ

বদরগঞ্জে কর্তনের অপেক্ষায় ১০ কোটি লাখ টাকার মূল্যবান গাছ

চিলাহাটি ওয়েব ডটকম : 25 April, 2018 | 7:36:00 PM

আকাশ রহমান,বদরগঞ্জ প্রতিনিধি,চিলাহাটি ওয়েব : রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন সড়ক ও মহাসড়কের ধারে কর্তনের অপেক্ষায় রয়েছে প্রায় ১০কোটি টাকার মুল্যবান গাছপালা। সামাজিক বনায়ন কর্মসুচীর আওতায় লাগানো বিভিন্ন প্রজাতির এসব গাছগলো কর্তনের সময় অতিক্রান্ত হলেও সরকারী অনুমতির অভাবে কর্তন করা সম্ভব হচ্ছেনা। পরিপুর্ণ বয়সী বেশিরভাগ গাছ ঝড় বাতাসে সড়কের উপর ভেঙ্গে পড়ে চলাচলের বিঘœ সৃষ্টি করছে। সেইসাথে প্রকৃতিক দুর্যোগ জনিত কারণে গাছ শুকিয়ে গিয়ে সাধারণ মানুষের রান্নার জ্বালানীতে পরিনত হচ্ছে। ফলে একদিকে যেমন সরকার হারাচ্ছে লক্ষলক্ষ টাকার রাজস্ব। অন্যদিকে উপকারভোগী সদস্যরা রোপিত বৃক্ষের লভ্যাংশ না পেয়ে সামাজিক বনায়ন কর্মসুচী থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে।
প্রকাশ থাকে; সামাজিক বনায়ন কর্মসুচীর আওতায় উপজেলার বদরগঞ্জ-লালদিঘী, বদরগঞ্জ-নাগেরহাট, বদরগঞ্জ-ট্যাক্সেরহাট, বদরগঞ্জ-শ্যামপুর ও বদরগঞ্জ-রংপুর মহাসড়কের ধারে ৩দশক পুর্বে লাগানো হয়েছে আকাশমনি, শিশু, এন্ট্রিকড়াই, ইউক্যালিপ্টাসসহ বিভিন্ন প্রজাতির মুল্যবান গাছপালা। উপযুক্ত সময় পেরিয়ে গেলেও সরকারী অনুমতির অভাবে কর্তন করা সম্ভব হচ্ছেনা। প্রাকৃতিক দুর্যোগ জনিত কারণে বেশিরভাগ গাছপালা শুকিয়ে গিয়ে সাধারণ মানুষের রান্নার জ্বালানিতে পরিনত হচ্ছে। এছাড়াও প্রতিরাতে চুরি হচ্ছে অসংখ্য মুল্যবান গাছ। নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে গেলেও গাছ কাটতে না পেরে উপকারভোগী সদস্যরা হতাশ হয়ে পড়েছেন। এবিষয়ে উপজেলার দামোদরপুর এলাকার আওয়ামিলীগ নেতা সেকেন্দার আলী জানান; সামাজিক বনায়ন প্রকল্পের আওতায় এক সময় এই এলাকার লোকজন বুকভরা আশা নিয়ে সড়কের ধারে গাছপালা রোপন করেছিল। কিন্তু ৩০-৪০ বছর কেটে গেলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণে আজ পর্যন্ত গাছগুলো কাটা সম্ভব হয়নি। এখন গাছের বয়সের সাথে সাথে অনেকের নিজের বয়সও শেষ হয়ে গেলেও তারা লভ্যাংশের মুখ দেখেনি। লোহানীপাড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সেকেন্দার আলী জানান; নাগেরহাট-বদরগঞ্জ সড়কের লক্ষলক্ষ টাকার গাছপালা কর্তনের অভাবে শুকিয়ে গেছে। গাছ কর্তনের ব্যাপারে বছরের পর বছর ধরে বনবিভাগ অফিসে ধর্না দিয়েও কর্তনের অনুমতি মেলেনি। শ্যামপুর বসন্তপুর গ্রামের উপকারভোগী সদস্য শাহিনুর রহমান জানান, আমরা সড়কের ধারে গাছ লাগিয়ে নিজের সন্তানের মত বড় করেছি। অথচ সেই গাছ যাচ্ছে চোরের পেটে। আপনাদেরকে এসব বলে কি লাভ? আপনারা কি গাছ কাটার ব্যবস্থা করে দিতে পারবেন? গতকাল বুধবার উপজেলা বনবিট কর্মকর্তা মোরশেদ আলম সাংবাদিকদের বলেন; আমরা কর্তৃপক্ষকে বারবার তাগিদ দেওয়ার পরেও এই উপজেলার সামাজিক বনায়নের গাছ কর্তনের অনুমতি মিলছেনা। ফলে পুরো উপজেলার প্রায় ১০কোটি টাকার বনজ সম্পদ সড়কের ধারেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কর্তৃপক্ষ একটু খেয়াল করলেই একদিকে যেমন উপকারভোগী সদস্যরা এই গাছের লভ্যাংশ পাবে তেমনি অন্যদিকে সরকারের কোষাগারে চলে যাবে লক্ষলক্ষ টাকার রাজস্ব।