Home » » চিরিরবন্দরে আউশ মৌসুমে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ড্রাম সিডার

চিরিরবন্দরে আউশ মৌসুমে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ড্রাম সিডার

চিলাহাটি ওয়েব ডটকম Chilahati Web : 15 April, 2018 | 8:21:00 PM

দেলোয়ার হোসেন বাদশা, চিরিরবন্দর প্রতিনিধি,চিলাহাটি ওয়েব : দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে আউশ মৌসুমে ড্রাম সিডার পদ্ধতিতে ধান বপন করে ব্যাপক সফালতার স্বপ্ন দেখছেন কৃষকরা। এই পদ্ধতিতে বীজতলা তৈরি না করে সরাসরি খেতে ধান বপনের মাধ্যমে চাষাবাদ হয়ে থাকে। সময়, খরচ ও শ্রম কম দিয়ে সনাতন পদ্ধতির চেয়ে বেশি ফসল পাওয়ায় চিরিরবন্দর কৃষকদের মধ্যে ড্রাম সিডার পদ্ধতিতে আউশ নেরিকা ধান চাষ ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, দুপাশে প্লাস্টিকের দুটি চাকার ভেতর একটি লোহার দ-ের মধ্যে সারিবদ্ধভাবে নির্দিষ্ট দূরত্বে ছোট আকৃতির ছয়টি প্লাস্টিকের ড্রাম থাকে। প্রতিটি ড্রামে থাকে কয়েকটি করে ছিদ্র। প্লাস্টিকের চাকার সঙ্গে লাগানো থাকে একটি হাতল, যেটি ধরে একজন কৃষক সহজেই যন্ত্রটি টানতে পারেন। ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা হলেই যন্ত্রটি বানানো যায়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ড্রাম সিডারের মাধ্যমে একজন কৃষক এক দিনে দুই একর জমিতে ধান বপন করতে পারেন। কিন্তু সনাতন পদ্ধতিতে এই ধানের চারা রোপণ করতে অন্তত ২৫ জন শ্রমিক লাগত। তাই কৃষক ঘরে রসুন তুলে ইরি বোরো ধানের সাথেই যেন নেরিকা ধান ঘরে তুলতে পারে সেজন্যই ড্রাম সিডার ব্যবহার দিনদিন কৃষকরা ড্রাম সিডারের প্রতি ঝুঁকছেন। চিরিরবন্দর নশরতপুর ইউনিয়নের ডাক্তারপাড়া গ্রামের কৃষক শহীদ ইসলাম, রফিকুল ইসলাম ও নুরজামান। তারা প্রত্যেককে এক একর করে জমির রসুন ঘরে তুলে বর্তমানে বোরো আাবাদের সাথে আউশ মৌসুমে খুব তাড়াতাড়ি যেন ধান বপন করতে পারে তাই এই পদ্ধতিতে ধান চাষ করেছেন। তাদের দেখে এখন উপজেলার অনেক কৃষকই এই প্রযুক্তি ব্যবহারে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। ওই তিনজন কৃষক জানান, ড্রাম সিডার দিয়ে ধান চাষ করায় তাঁদের উৎপাদন খরচ ২০ থেকে ২৫ শতাংশ কমে এসেছে। তারা আরও জানান, সনাতন পদ্ধতিতে এক একর জমিতে ২০ কেজি বীজ লাগে। বীজ বপনের ৩০ থেকে ৩৫ দিন পরে বীজতলা থেকে চারা তুলে খেতে লাগাতে হতো। এ কাজে ১০ থেকে ১৫ জন শ্রমিক লাগত। অথচ ড্রাম সিডারের মাধ্যমে এক একর জমিতে সরাসরি ধান বপন করতে একজন শ্রমিকই যথেষ্ট। যেখানে সনাতন পদ্ধতিতে বীজ লাগত ২০ কেজি, সেখানে ড্রাম সিডার পদ্ধতিতে বীজ লাগবে ১০ কেজি। জমি ও পরিবেশ ভেদে আউশ, আমন ও বোরো তিন মৌসুমেই এই প্রযুক্তিতে চাষ করা যায়। তবে আউশ ও বোরো ধান চাষের জন্য এটি বেশি উপযোগী। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো: মাহমুদুল হাসান জানান, বোরো মৌসুমে উপজেলার অনেক কৃষক জমিতে রসুন চাষ করেছে। কৃষক ঘরে রসুন তোলার পরপরই জমিতে আউশ নেরিকা ধান বপনের জন্য অল্প সময়ে ড্রাম সিডার পদ্ধতি খুবই লাভজনক। তিনি আরও বলেন, এই পদ্ধতিতে ধান চাষ করে কৃষকেরা লাভবান হওয়ায় আগামী কয়েক বছরের মধ্যে পুরো উপজেলাতেই ড্রাম সিডারে ধান চাষ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

শেয়ার করুন :