Home » » ডিমলায় দরিদ্র নারী শ্রমিকদের সংসারে এখন আর অভাব নেই

ডিমলায় দরিদ্র নারী শ্রমিকদের সংসারে এখন আর অভাব নেই

চিলাহাটি ওয়েব ডটকম News Editor : Monday, April 23, 2018 | 12:42:00 AM

মাজহারুল ইসলাম লিটন, ডিমলা প্রতিনিধি,চিলাহাটি ওয়েব : নীলফামারীর ডিমলায় বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড(বিআরডিবি)র উদকনিক প্রকল্পের মাধ্যমে প্রশিক্ষন নিয়ে উপজেলার হত দরিদ্র নারীরা তাদের সংসারের প্রদীপ যখন নিভুনিভু ঠিক সেই সময় পাপোসসহ শাড়ী পাঞ্জাবী ও কাপড়ের নক্সা তৈরির কাজ ও সাধারন সেলাইর প্রশিক্ষন নিয়ে সুখের মুখ দেখছেন তারা। এখন তারা সাবলম্বী দারিদ্রের কাছে হার মানেনি তারা গ্রাম গঞ্জের প্রান্তিক পর্যায়ে দরিদ্র ও হতদরিদ্র পরিবারের নারীরা প্রতিনিয়ত অবহেলা আর লাঞ্চনার শিকার হয়ে জীবন সংসারে নিজেকে একেবারেই অতিরিক্ত ঝামেলা মনে করেন কিন্তু কায়িক শ্রমের মাধ্যমে নারীদের সংসার জীবনের চাকা ঘুরে উন্নতির শিখড়ে পৌঁছে যেতে পারে, ঘুরে দাড়াতে পারে নারীরাও হাল ধরতে পারে সংসার জীবনের তাই নারীদের স্বাবলম্বী করার প্রত্যয় নিয়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয় বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড(বিআরডিবি)র উদকনিক প্রকল্প। বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড(বিআরডিবি)র উদকনিক প্রকল্প আওতায় নীলফামারী জেলার ডিমলা উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ও চরাঞ্চলের ৫১৬ জন হতদরিদ্র নারী শ্রমিকের প্রশিক্ষনের জন্য ডিমলা মহিলা কলেজ সংলগ্ন এলাকায় গত ৩ বছর আগে গড়ে তুলে পাপোস তৈরি সহ বিভিন্ন সেলাই ও নক্সার প্রশিক্ষন কেন্দ্র। মাত্র ৫১৬ জন নারী শ্রমিক অক্লান্ত পরিশ্রম করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে পাপোস তৈরীসহ এই সেলাই কারখানায়, নিপুণ হাতে বুনে যাচ্ছেন পাপোসসহ শাড়ী পাঞ্জাবীর নিখুত নক্সা যা দেশের বিভিন্ন এলাকার মার্কেটে বিক্রি করে প্রচুর অর্থ অর্জিত হচ্ছে ডিমলা এলাকায় ফলে সাবলম্বী হচ্ছে হতদরিদ্র নারীরা। কথা হয় খগাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের দোহল পাড়া (মাষ্টার পাড়া) গ্রামের জহুরা বেগম (৩৫) এর সাথে দারিদ্রতার কারনে লেখাপড়া শিখতে পারেনি শিশু কালেই সংসারের বোঝা কমাতে বাবা বিয়ে দিয়েছে তাকে। জহুরা বলেন, বিয়ের পর হতে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড(বিআরডিবি)র উদকনিক প্রকল্পে প্রশিক্ষনের আগে তার সংসারের বাত্বি প্রায় নিভুনিভু হয়ে যাচ্ছিলো, মানুষের বাড়ীতে ঝিয়ের কাজ করে কোন রকম খেয়ে না খেয়ে দিন কাটিয়েছি চিকিৎসার টাকা ছিলোনা অতিকষ্টে সন্তানদের পড়ালেখা করিয়েছি তিন সন্তানের মধ্যে বড় ছেলে ফিরোজ(২০) প্রতিবন্দি, মেয়ে রুবিনা (১৬) এবারে এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে আর ছোট ছেলে মেহেদি হাসান গ্রামের একটি বিদ্যালয়ে ৭ম শ্রেনীতে পড়ছে স্বামী মহিকুল ইসলাম দিন হাজিরায় কৃষি কাজ করে। দিনমিলে দিনখেয়ে দিনাতিপাত করেছি নিদারুন কষ্টে। ঠিন সেই সময় বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড(বিআরডিবি)র উদকনিক প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে ৬০ দিন পাপোস তৈরীসহ বিভিন্ন নক্স্রা ও সাধারন সেলাইয়ের প্রশিক্ষন নিয়ে নিজ বাড়ীতে মিনি গার্মেন্টস গড়ে তোলেন তিনি সেখানে প্রতিদিন ১২ জন সদস্য কাজ করেন। তখন (গত ৩ বৎসর) আগে আমার পাশে দাড়ায় বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড(বিআরডিবি)র উদকনিক প্রকল্প আমি সেখানে সেলাই কাজের প্রশিক্ষন নিয়ে তাদের আর্থিক সহযোগিতায় নিজ বাড়ীতে গড়ে তুলেছি একটি মিনি গার্মেন্টস। আগে আমাকে কোন এনজিও কিংবা ব্যাংকে ঋন নিতে গেলে কোন সংস্থাই আমাকে ঋন দেয়নি। এখন আমি বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড(বিআরডিবি)র উদকনিক প্রকল্পের সহযোগিতায় যখন আলোর মুখ দেখেছি তখন সব সংস্থাই আমাকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়। এখন আমি সাবলম্বি আমার মিনি গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠানের রোজগারে দুই বিঘা জমি ক্রয় করেছি,তিনবেলা খাবারের আর চিন্তা করতে হয়না আমার স্বামী সন্তান নিয়ে এখন বেশ ভালই আছি আমি। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড(বিআরডিবি)র উদকনিক প্রকল্পের প্রডাকশন ম্যানেজার সুব্রত সরকার পলাশ বলেন, আমরা বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড(বিআরডিবি)র উদকনিক প্রকল্পের মাধ্যমে উপজেলার ৫১৬ জন হতদরিদ্র পরিবারের মহিলা ও ৬০ জন পুরুষ উপকার ভোগী সদস্যকে যোগ্যতা অনুসারে বিভিন্ন প্রশিক্ষনের মাধ্যমে সাহযোগিতা দিয়ে তাদের নিজেদের ভার্গ্যরে পরিবর্তনে চেষ্টা করছি। প্রকল্পের উপজেলা কর্মকর্তা রাজিউড় রহমান রাজু জানান, আমরা বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড(বিআরডিবি)র উদকনিক প্রকল্পের মাধ্যমে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছি। এখন ইচ্ছে করলে এ অঞ্চলের আরো অনেকে কিংবা সরকারী বা বেসরকারী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলে তাদের নিজেদের ও হতদরিদ্র পরিবারের সদস্যদের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটাতে পারেন । ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুন নাহার বলেন বিআরডিবি’র এত সুন্দর একটি প্রকল্প ডিমলায় রয়েছে তা আগে জানতে পারিনি এবারের ১লা বৈশাখে তাদের তৈরী ও নক্সা করা কাপড় দিয়ে বাংলা নববর্ষ পালন করে আমি তা জানতে পেরেছি। এই প্রকল্পের প্রশিক্ষিত উপকারভোগীদের হাতে উৎপাদিত পন্য যদি আমরা ব্যবহার করি তাহলে প্রশিক্ষিত সদস্যরা উৎসাহিত হবে অপর দিকে তাদের তৈরী পন্য বাজারজাত করনের মাধ্যমে তৈরী হবে পন্যের বাড়তি চাহিদাও। এবং এই উদ্যেগের মাধ্যমে যেমন বিআরডিবি’র স্থানীয় উপকারভোগীরা উৎসাহ পাবে তেমনী তাদের উৎপাদিত বিভিন্ন পন্য দেখে আরো অনেক স্থানয়ি ক্ষুদ্র উদ্যোগক্তা তৈরী হবে।
শেয়ার করুন :