Home » » বদরগঞ্জে ছুটির দিনে বিদ্যালয়ের গাছ কর্তন

বদরগঞ্জে ছুটির দিনে বিদ্যালয়ের গাছ কর্তন

চিলাহাটি ওয়েব ডটকম : 15 April, 2018 | 8:14:00 PM

আকাশ রহমান,বদরগঞ্জ প্রতিনিধি,চিলাহাটি ওয়েব : রংপুরের বদরগঞ্জে ছুটির দিনে বিদ্যালয়ের গাছ কর্তন করেন কথিত এক গাছের মালিক। উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া স্থানীয় প্রভাব খাটিয়ে অবৈধভাবে বিদ্যালয়ের গাছ কর্তন করায় সচেতন মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সেইসাথে তারা গাছ খেকো ব্যক্তির যথাযথ শাস্তি কামনা করে ফুঁসে ওঠেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার কুতুবপুর নাগেরহাট বন্দর এলাকায় অবস্থিত কুতুবপুর স্কুল এন্ড কলেজ। ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জমিতে পরিপূর্ণ বয়সী বিভিন্ন প্রকার গাছপালা রয়েছে। গত শুক্রবার (১৩এপ্রিল) ছুটির দিনে স্থানীয় গাছুয়াপাড়ার মৃত যাদু মিয়ার ছেলে রুয়েল মিয়া ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গাছপালাগুলো নিজের বলে দাবী করে ৫টি ইউক্যালিপ্টাস গাছ কর্তন করেন। যার আনুমানিক মূল্য ৫০হাজার টাকা। এ ঘটনার পর তাৎক্ষনিক এলাকার লোকজন যথাযথ কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও সরকারী ছুটি থাকার কারণে কাউকে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত করতে পারেননি। যার ফলে গাছ কর্তনকারী গাছগুলো অনায়াসে বিক্রি করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেন। এ বিষয়ে কুতুবপুর স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ আওয়ামীলীগ নেতা মোঃ আব্দুল হাই মোবাইল ফোনে বলেন, রুয়েল মিয়া বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই গোপনে গাছপালা কর্তন করেছেন। কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গাছ কর্তন করতে হলে কর্তৃপক্ষের অনুমতি পত্রের প্রয়োজন হয়। কিন্তু তিনি আমাদেরকে কোন কিছু না জানিয়ে সরকারী ছুটির দিনে ৫টি ইউ গাছ কর্তন করেছেন। ওই ব্যাপারে আমরা আগামী মঙ্গলবার বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সাথে জরুরী আলোচনা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ওই আলোচনায় গাছ কর্তনকারী রুয়েল মিয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। প্রতিষ্ঠানের সভাপতি সংশ্লিষ্ঠ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আতিয়ার রহমান দুলু বলেন, প্রতিষ্ঠানের জমির গাছ কর্তনের ব্যাপারটি আমি শুনেছি। আলোচনা করে ওই ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এরপর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবৈধভাবে গাছ কর্তনকারী রুয়েল মিয়ার সাথে মোবাইল ফোনে কথা হলে তিনি বলেন, বিদ্যালয়ের জমিতে আমি বেশ কিছু গাছপালা রোপন করেছি। এর আগে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আমাকে না জানিয়ে অসংখ্য গাছপালা কর্তন করেছেন। আমি গাছের অংশ চাইতে গেলে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আমাকেও ১০টি গাছ কেটে নিতে বলেন। তাই আমি ৫টি ইউ গাছ কেটেছি, খুব শীঘ্রই আরো ৫টি গাছ কাটব। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যদি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া গাছ কর্তন করতে পারে তাহলে আমাকে কেন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হবে কেন? আমি একজন শিক্ষিত মানুষ! অতএব আমাকে ভালমন্দ শেখাতে আসবেন না। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ফজলে এলাহী বলেন, সরকারী ছুটির কারণে আমি বাইরে আছি। অফিসে গিয়ে খোঁজখবর নিয়ে দেখা হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রাশেদুল হকের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। ফলে তাঁর মন্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।