Home » » চিরিরবন্দরে বিলকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকা

চিরিরবন্দরে বিলকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকা

দেলোয়ার হোসেন বাদশা, চিরিরবন্দর প্রতিনিধি,চিলাহাটি ওয়েব : দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে সরকারী বিলকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকায় আদিবাসীসহ ৭০ ভূমিহীন পরিবার আতঙ্কে দিনাতিপাত করছে। সুরক্ষা চেয়ে ভুক্তভোগী ভুমিহীনরা চিরিরবন্দর থানা পুলিশের হস্তক্ষেপ চেয়ে অভিযোগপত্র দাখিল করলেও অজ্ঞাত কারনে পুলিশের নিরবতায় ভুমিগ্রাসীরা আরও রেপরোয়া হয়ে উঠেছে। অভিযোগপত্র মতে জানা গেছে, উপজেলার ভিয়াইল ইউনিয়নের দল্লা গ্রামে খাস খতিয়ানভুক্ত ২৫৯৬ দাগের ৮ একর ৮৩ শতক কাঞ্চন বিল দীর্ঘদিন ধরে আদিবাসীসহ ৭০ ভুমিহীন পরিবার ওই বিলে মাছ চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করছে। হঠাৎ করে একই গ্রামের মৃত জসিউর রহমানের পুত্র মেহেবুর রশিদ, ওই বিলের মালিকানা দাবী করে বিল দখলের চেষ্টায় ভুমিহীনদের বিভিন্ন সময় চড়াও হয়ে প্রাননাশের হুমকি অব্যাহত রেখেছে ও ভুমিহীনদের হেনস্তা করার জন্য অন্তত ফৌজদারীসহ ৩০টি মামলায় তাদেরকে আসামী করে নানাভাবে হয়রানি করছে। তাদের এই বিরোধ নিস্পত্তির জন্য অনেকবার স্থানীয় সালিশ বৈঠক হলেও কোন সমাধান হয়নি। ভুমিগ্রাসীদের অব্যাহত হুমকিতে তারা আতঙ্কে চলাফেরা করেও রেহাই পাচ্ছেনা। এরই অংশ হিসেবে গত ৪ এপ্রিল বুধবার বিকেলে মেহেবুর রশিদ মাস্টারের পুত্র রাসেল কিছু ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীদের নিয়ে ২৫ থেকে ৩০টি মোটর সাইকেলযোগে ভুমিহীন ফাইজুর রহমানকে হত্যার উদ্দেশ্যে বাড়ীতে হামলা চালায় এতে ফাইজুরের স্ত্রী আহত হয়। দল্লা গ্রামের ভুমিহীন পরিবারের মৃত মফিজ উদ্দীনের পুত্র ফাইজার, মৃত কেমাজ উদ্দীনের পুত্র আব্দুল খালেক, মৃত ঝগড়– সরেনের পুত্র বিষু সরেন, অপরপুত্র রামু সরেন, সাক্ষী মাড্ডির পুত্র কৃষ্ণ মাড্ডী, নোরদো মাড্ডির পুত্র লক্ষন মাড্ডি, নন্দশীলের পুত্র ধীরেন শীল, অলেকান্ত রায়ের পুত্র অমুল্য রায় জানান, মেহেবুর রশীদ ও তার গুন্ডা বাহিনীর ভয়ে রাতে আতঙ্কে থাকি। মেহেবুর রশীদ তার দালালদের মাধ্যমে অনবরত হুমকি দিচ্ছে ভুমিহীনদের হত্যা না করা পর্যন্ত তার বিল দখল করা হবেনা। তারা আরও বলেন উপজেলা প্রশাসন থানা পুলিশকে আমরা অনেকবার এ বিষয়ে অবগত করেছি কিন্তু কোন লাভ হয়নি। এ বিষয়ে মেহেবুর রশিদের সাথে সরাসরি কথা হলে তিনি ভুমিহীনদের নের্তৃত্ব প্রদানকারী ফাইজুর রহমানকে যে কোন মুল্যে খুন জখম আহত নিহত করবে বলে এই প্রতিবেদকের কাছে প্রকাশ্যে হুমকি প্রদান করেন। তিনি আরও বলেন এসিল্যান্ড, সাংবাদিককে হিসাব করার মতো সময়ও তার নাকি নেই। বিলকে কেন্দ্র করে আগত সংঘর্ষের ব্যাপারে ভিয়াইল ইউপি চেয়ারম্যান নরেন্দ্র নাথ রায় জানান, তিনি দু’পক্ষকে সংঘর্ষ এড়িয়ে আইনিভাবে বিষয়টি সমাধানের পরামর্শ দেয়া হয়েছে। চিরিরবন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ হারেসুল ইসলাম জানান, ভুমিহীনদের অভিযোগপত্র পেয়েছি ইতিমধ্যে বিষয়টি তদন্ত করার জন্য এই লতিফুর রহমানকে দায়িত্ব দিয়েছি। তারপরও সময় করে আমি নিজে গিয়ে বিলের ব্যাপারে নিবিড় তদন্ত করে দেখবো। এসিল্যান্ড মেজবাউল করিম বলেন, বিলটি মূলত ব্যক্তি মালিকানা ওই দাগের বিপরীতে বিল দাবী কারীদের পক্ষে হালনাগাদ খাজনা খারিজও হয়েছে।
শেয়ার করুন :