Home » , » অত্যাধুনিক প্রযুক্তির কাছে হারিয়ে যাওয়া ক্যাসেটের রিল

অত্যাধুনিক প্রযুক্তির কাছে হারিয়ে যাওয়া ক্যাসেটের রিল

আকাশ রহমান, বদরগঞ্জ প্রতিনিধি,চিলাহাটি ওয়েব : অত্যাধুনিক প্রযুক্তির অর্জন ভিসিডি, ডিভিডি প্লেয়ার, মোবাইল ফোন ও বিজ্ঞানের শ্রেষ্ঠ আবিস্কার কম্পিউটার ব্যবহারের ফলে বর্তমান সময়ে অকেজ হয়ে গেছে ঊনবিংশ ও বিংশ শতাব্দির মানুষের শ্রেষ্ঠ বিনোদন মাধ্যম ক্যাসেট ও ক্যাসেটের রেশমি ফিতা (রিল)। রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার অসংখ্যা ইলেকট্রিক দোন গুলোতে এক সময়ের সাড়া জাগানো ক্যাসেটের রিল অবিক্রিত অবস্থায় পড়ে থাকলেও এগুলোর খোঁজ করার মত কোন ক্রেতা নেই। অত্যাধুনিক প্রযুক্তির কাছে হেরে যাওয়া রিল গুলো দেখে মনে হয় এগুলো শুধু দোকানের বাড়তি সৌন্দর্যের প্রতীক হয়ে সংগীতমনা মানুষের মাঝে স্মৃতি বহন করছে। গতকাল সোমবার দিনব্যাপী পৌর শহরের ‘সুর ঝংকার ইলেকট্রিক, ‘অথৈই ইলেকট্রিক, ‘খোকন ইলেকট্রিক, ‘জেরিন ইলেকট্রিক, ‘সবুজ ইলেকট্রিক, ‘আব্দুল ‘মান্নান ইলেকট্রিক, ‘আনারুল টেলিকমসহ বেশ কিছু ইলেকট্রিক দোকানে গেলে চোখে পড়ে অবিক্রিত অবস্থায় দোকানে পড়ে থাকা হাজার হাজার রেশমি ফিতা (রিল)। গত তত্বাবোধায়ক সরকারের আমল থেকে এসব রিল দোকানে পড়ে থাকলেও এখন ভুলক্রমেও কোন ক্রেতা এসে এগুলোর খোঁজ খবর নেয়না। তাই দোকানদাররা কবে কখন সর্ব শেষ এই রিল বিক্রি করেছেন সেটাও বলতে পারেননি তারা। এক সময়ের সাড়া জাগানো বাংলা, হিন্দি ছায়া ছবি, নাটক, গান, সংলাপ ও ওয়াজ মাহফিলের রিল গুলোর প্রচুর চাহিদা থাকায় দোকানদাররা সে গুলো পাইকারী হারে ২৮-৩০ টাকায় ক্রয় করে ৪০-৪৫টাকায় বিক্রি করত। কিন্তু এর পর থেকে বাজারে ভিসিডি, ডিভিডি, মোবাইল ফোন আসার পর লোকজন ক্যাসেটের ব্যবহার একেবারে বন্ধ করে দেয়। এছাড়াও বর্তমান সময়ে বিজ্ঞানের বিস্মিত আবিস্কার কম্পিউটাররের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ার সাথে সাথে ক্যাসেটের নাম পর্যন্ত মানুষ ভুলে যেতে বসেছে বলে দোকানদাররা জানান। তারা আরো জানান, তত্বাবোধায়ক সরকারের আমল শেষ হওয়ার পরেও এ উপজেলার প্রত্যন্ত পল্লী অঞ্চলের কিছু কিছু মানুষ ক্যাসেটের গান শুনত বলে সে সময় কিছু কিছু করে রিল বিক্রি হয়ে যেত। কিন্তু এখন অত্যাধুনিক প্রযুক্তির তৈরি ইলেকট্রিক সামগ্রী গুলো শহরের বাইরে গ্রামের মানুষের হাতের নাগালে পৌছে যাওয়ায় (রেশমি ফিতা) ক্যাসেটের রিল গুলো একেবারে অচল হয়ে গেছে। এবিষয়ে ‘সুর ঝংকার ইলেকট্রিক্স’ এর সত্বাধিকারী মোঃ মোকছেদুল হক শাহ্ বলেন, আমার দোকানে বর্তমানে ৬হাজার রিল অবিক্রিত অবস্থায় পড়ে আছে। যার মুল্য ১৮হাজার টাকা। সেসময় রিল গুলো কেনার পর ক্রেতার অভাবে বিক্রি করতে পারিনি। আধুনিক যুগের মানুষ এখন ভিসিডি, ডিভিডি ও মোবাইল ফোন ব্যবহার করায় এসব অচল রিল আমার ভবিষ্যতে স্মৃতি ও দোকানে র‌্যাকে সৌন্দর্য়ের প্রতীক হিসেবে রেখে দিয়েছি। অন্যদিকে ক্যাসেটের সুমধুর গান শুনে হৃদয়ের খোরাক জোগানো সেই সময়ের প্রবীন শ্রোতা বদরগঞ্জ পৌর শহরের বাসিন্দা আব্দুল আলিম (৭২) আক্ষেপ করে বলেন, এক সময়ের এই ক্যাসেটের গান শুনে আমার সারাদিন কাটত। অনেক টাকা খরচ করে সুদুর চট্রগ্রাম থেকে একটি বড় ধরনের ক্যাসেট সেট কিনে এনেছিলাম। বর্তমান বিজ্ঞানের চরম উৎকর্ষে আজ আমার সেই ক্যাসেটটি খেলনা সামগ্রীতে পরিনত হয়েছে।
শেয়ার করুন :