Home » » মৃত্যুর ফাঁদ দিয়ে চলাচল ২০ গ্রামের মানুষের!

মৃত্যুর ফাঁদ দিয়ে চলাচল ২০ গ্রামের মানুষের!

চিলাহাটি ওয়েব ডটকম : 10 February, 2018 | 12:00:00 PM

আকাশ রহমান, বদরগঞ্জ প্রতিনিধি,চিলাহাটি ওয়েব : রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার কালুপাড়া ইউনিয়নের মরাতিস্তা নদীর পরিত্যক্ত সেতু দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন ২০ গ্রামের প্রায় কয়েক হাজার মানুষ। বিগত কয়েক বছর ধরে এই অবস্থায়ই চলাচল করছেন তারা। এনিয়ে এলাকার লোকজন অনেক দেনদরবার করলেও কাজ হয়নি। ফলে যেকোনো মুহুর্তে বড় ধরণের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলছে- মন্ত্রণালয়ে সেতু নির্মাণের প্রস্তাব পাঠানো হলেও সাড়া মেলেনি। একারণে এলাকাবাসী ঝুঁকিপূর্ণ এই সেতুটিকে মরণ ফাঁদ উল্লেখ করে দ্রুত সেখানে পুণঃনির্মাণের জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলেন, প্রায় একশ বছর আগে মরা তিস্তা নদীর ওপর ওই সেতুটি নির্মাণ করা হয়। কয়েক বছর আগে সেতুর একাংশে ফাটল দেখা দেয়। এছাড়া গত বছরের ভয়াবহ বন্যায় সেতুর একপাশের পিলার ভেঙ্গে পড়ে। কোনো উপায় না থাকায় সেখানে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে একটি সাঁকো তৈরি করা হলেও সেটিও ব্যবহারে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়েই পরিত্যক্ত সেতু দিয়েই চলাচল করছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওই সেতুর আশপাশের গুটিরডাঙ্গা, কালুপাড়া, মধ্যপাড়া, উত্তর কালুপাড়া, মন্ডলপাড়াসহ বেশ কয়েকটি এলাকার মানুষের যাতায়াতের বিকল্প কোন পথ না থাকায় কয়েক হাজার মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ওই সেতুর ওপর দিয়েই হালকা ও ভারী যানবাহনসহ চলাচল করছেন।
মন্ডলপাড়ার আবুল হোসেন, বাবু মিয়া, মুকুল ও মোহাম্মদ আলী বলেন, ব্রীজে উঠলে ভয় লাগে। কারণ কখন যে হুড়মুড় করে ভেঙ্গে যায়। তবুও প্রতিদিন এই সেতুর উপর দিয়ে চলাচল করছি।
একই কথা বলেন কালুপাড়া গুটিরডাঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সুমন, মিলন, জসিম, রাজুসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী প্রতিদিনই ওই ঝুঁকিপূর্ণ ব্রীজের ওপর দিয়েই স্কুলে যাতায়াত করেন। তাদের সাথে কথা হলে তারা বলেন, স্কুল যাতায়াতের বিকল্প পথ না থাকায় জীবনের ঝুকিঁ নিয়ে সেতুর ওপর দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে।
এবিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য আহসানুল হক চৌধুরি ডিউক এর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি।
এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী আবু তালেব সরকার বলেন, ওই সেতু অনেক আগেই ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষনা করা হয়েছে। সেটি পুণ:নির্মাণের জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। কিন্তু এখনও সাড়া পাইনি।