Home » » কবি ও কবিতার গল্প --- (১ম পর্ব)

কবি ও কবিতার গল্প --- (১ম পর্ব)

চিলাহাটি ওয়েব ডটকম : 03 February, 2018 | 12:05:00 AM





















॥ তোফায়েল আহমেদ ॥ 


বাংলা ভাষার বিকাশ ও নতুনত্বের প্রয়াসে সাহিত্য নিয়ে লেখালেখি করা কবিদের কাজ। যুগে যুগে তাই শুনে ও দেখে আসছি।যে কোন দেশে বিভিন্ন ভাষার বিকাশে কবিরাই অগ্রনী ভূমিকা পালন করে থাকে দেশ ও সারা পথিবীতে। 

কবিরা কবিতার আকাশকে আরো নতুনত্বের ধারালো কাব্যে,ছন্দে,শিখনীয় অর্থে, গল্পে, ছড়ায়,বাণীতে, রম্য কাহিনীতে, প্রবন্ধে ও উপণ্যাসে সহ ভাষার বিভিন্ন শাখায় নিজেদেরকে তুলে ধরে কলমের দ্বারা।

তারা মানুষের কল্যাণে, শিক্ষার বিকাশে, শ্রেষ্ঠ মানুষ গঠনে,আলোকিত মনন সৃষ্টিতে,দৃষ্টি ও বিবেকের সুললিত প্রখরতা বাড়াতে, নিজেকে চিনতে, ও অপরকে চেনাতে সাহায্য করে একমাত্র সাহিত্য।যা কবিদের দ্বারাই সম্ভব। 

কবিদের লেখায় উঠে আসে সামাজ, পরিবার,রাষ্ট্র, মানুষ, মানবতা, অবহেলিত মানুষ,বৈষম্যতা,অধিকার, ন্যায়,অন্যায়,শোষন, বঞ্চণা,যুদ্ধ,বিগ্রহ, বিদ্বেষ,হানাহানি, শান্তির বানী, জাতি,প্রাণীকুল, ও পৃথিবীর সব অজানা কথার চেষ্টিত পান্ডুলিপিতে উঠে আসে বিবেচিত বিবেক মনুষত্বের লেখা ।তাতে সম্মৃদ্ধ হয় মানুষ, সমাজ, রাষ্ট্র সারা দুনিয়ার মানুষজাতি।

 তাই প্রত্যেক দেশ ও দেশের মানুষ সত্যিকার কবিদের প্রতিভার, লেখার মূল্যায়ন করা অতীব জরুরী। যারা বিগত দিনের নামী দামী কবি ছিলেন, তারা চীরদিন অম্লান থাকবে,সারা ভবে,ও বাংলার মানুষের মননে জাগরনে ও পুস্তকের বহমানে। অথচ নতুন নতুন কবিদের মূল্যায় কেন করা হয়না এটা বোধগম্য নয়।
 কবিরা ও মানুষ।তাদের ও চাওয়া পাওয়া রয়েছে। পরিবার সংসার রয়েছে। রয়েছে বেঁচে থাকার বিচিত্র প্রয়োজন। আর বাংলাদেশের অধিকাংশ কবিরাই গরিব ঘরের সন্তান। কবি হওয়া কোন পাপ নয়। আর কেহ ইচ্ছা করলেই কবি হহতে পারেনা। ইহা আল্লাহর বিশেষ দান।

 কবিরা সব মানুষের কথা বলে।তারা কোন নির্দিষ্ট বিষয়ের উপর লেখেনা। তারা সামগ্রীক, অসীম।তাদের কল্পণায় ধরা পড়ে মানুষের না বলা কথা। কবিরা কখনো মিথ্যা কথা বলতে পারেনা।তারা সদালাপী, সহজ সরল মনের সাবলীল ও মহৎ মানুষ। তারা নম্র, ভদ্র ও বিনয়ী মানুষ। স্রষ্টা বিশ্বাসীতো বটেই। পর- উপকারে তাদের প্রাণ কাঁদে। আবার কবিরা কখনো আবেগী হয়,কখনো স্নেহ পরায়ন, আবার অনুরাগী, অভিমানী ও ভালোবাসার কান্ডারী।প্রেমকে কবিরা দারুন রুপে রাঙ্গায়িত করে উপস্থাপনা করে।হৃদয়ের ভাংগা গড়ার কথা তারা বোধে বুঝে কল্পণার ছোঁয়ায় আরো রসময় ও কখনো রক্ত ঝরা লেখনিতে প্রকাশ করে পাঠকদের সারপ্রাইজ দিয়ে থাকে। কবিরা হলো ভালোবাসার মসলা।যে মসলায় অনেক স্বাদ। আবার বিষাদ।

 ছোট ছোট বিষয় বস্তুকে তারা ছন্দের রস লাগিয়ে,ডং করে,শব্দের কারুকাজে আঁল্পণা করে। কখনো ব্যাখ্যা করে পাঠকের কাছে তুলে ধরে। পত্র পত্রিকায় ও বিভিন্ন মিডিয়ায় সুযোগ পেলে। মিডিয়া এখনতো কমার্শিয়াল হয়ে গেছে। কবিতা, কবি ও কবির সাক্ষাৎকার তুলে ধরার সুযোগের বড়ই অভাব। টাকা ছাড়া কবিদের সাক্ষাতকার নেয় না।

বর্তমানে ফেসবুকে তুলে ধরছে কবিদের কিছু কথন। তাদের লেখার বিভিন্ন বিষয়কে কেন্দ্র করে উঠে আসে সত্যের আসল ঠিকানা। তারা সব শ্রেনী, ধর্ম বর্ণের মানুষকে নিয়েই কবিতা ও সাহিত্যের বহমান স্রোতধারার বিভিন্ন শাখায় লেখা লেখি করে থাকে।
 
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কবিদের মূল্যায়ন করিতে সরকারী ভাবে ব্যাপক সুযোগ সুবিধা খুব সহজেই দিয়ে থাকে। তাদের সার্বিক সার্থে। দেশের সার্থে, ভাষার সার্থে।কবিরা ভাষার প্রদ্বীপ। আলোর রবি।সৃষ্টির সাধক।কবিরা হলো ভাষার নব রুপকার। কবিদের কথা বলে শেষ করা যাবেনা। লেখলে অনেক কথাই লেখা যায়। আগের রাজা বাদশাহরাও কবিদের অনেক মল্যায়ন করিত। ইতিহাসে কবিদের নাম অক্ষয় হয়ে থাকে, থাকবে। কবি মরে যায়, কিন্তু তার সৃষ্টি কথা বলে মানুষের কন্ঠে, মননে,ও পঠনে। তাই কবিরা কখনো মরে না

উপযোগী শিক্ষার আলোকে আরো পরিবর্তন, পরিবর্ধন, ও মরিমার্জন রুপ একমাত্র কবিরাই দিতে পারেন। কবিরা হলো মানুষের পথ প্রদর্শক। বর্তমানে কবির কবিতার বাণী কান্না করে,প্রকাশ ও বিকাশের ব্যথায়।যথোপযুক্ত সহযোগীতা ছাড়া কবির প্রতিভা ও তার লিখিত লেখা অন্ধকারে তলিয়ে যায়। কবিতার মালা থেকে কবিতার বাচ্চারা ঝরে পড়ছে প্রতিদিন। 

প্রকাশকের কথা আর কি বলবো।প্রকাশক কোন বই প্রকাশ করিলে টাকার বিনিময়ে সেটাও ঝরে পড়ে বিকাশের অবহেলায়। কবিদেরকে কিছু বই দিয়ে দেয়।তারা বাকী ছাপানো বই বিক্রি করে থাকে। কত গুলো তারা ছাপায় তাও গোপন থাকে।তার পর আর কোন বই বিক্রি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়না। পরে নতুন করে আর প্রকাশ করাও হয়না। অথাৎ মেলা পর্যন্তই কবির বইয়ের আলোচনা শেষ করে দেওয়া হয়। বইটিকে সর্বদা সারাদেশে পাওয়ার ব্যবস্থা করা হয় না। সব জায়গাতে ধোকাবাজি।

কিভাবে কবি ও তার লেখা বিকশিত হবে সে ব্যপারে দেশের সরকার প্রধানে যারা থাকেন তাদের কোন উদ্যোগ নেই। কবিদেরকে সবাই অবহেলার চোখে দেখে। রতনে রতন চিনে। কিন্তু চিনাতেতো হবে? চিনানোর জন্য ব্যাপক উদ্যোগ দরকার। 

তথ্য প্রযুক্তির উন্নতি হওয়ার কারনে কবিদের মূল্যায়ন আরো বাড়ার কথা। কিন্তু বাড়া দূরের কথা, আরো কমেছে। পাঠকদের দ্বার গোড়ায় বই পৌছে দিতে হবে। সারা গ্রাম বাংলায় তাহার প্রচার প্রসারের ব্যবস্থা নিতে হবে।।এই জন্য জোড়ালো উদ্যোগ সরকারকেই নিতে হবে। অথবা সরকার কর্তৃক ভাষা একাডেমীর মাধ্যমে তার বিস্তার লাভে আরো কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। কবি ও তাদের বিকাশে দেশের সরকারকেই মনোযোগী হতে হবে।তার বিলল্প সন্তুষজনক নয়।

 যেমন ক্রিকেট খেলোয়ার সংগ্রহে মাঠ পর্যায় থেকে বাছাই করে থানা, জেলা ও পরে কেন্দীয় অবস্থানে সুযোগ দেওয়া হয়, তেমনি কবিদের মূল্যায়ন কবিতার বা সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় লেখা যাচাই বাছাই এর মাধ্যমে তাদের তুলে এনে মর্যাদা দিতে হবে রাষ্ট্রীয় ভাবে। লেখার উৎসাহ বাড়াতে নব নব প্রেরণা দিতে হবে।এ ব্যপারে বাংলা একাডেমীর ভূমিকা বা করনীয়তা উল্লেখযোগ্য। অনলাইন পেইজ খুলে কবিদের প্রতিভা বিকাশে লেখা লেখির সুযোগ করে ভালো কবিদের বাছাই করে রাষ্টীয় সুযোগ করে দিয়ে দেশের সুনাম অর্জন করতে পারে। 

কবিরা যদি কখনো তাদের অবমল্যায়নকে কেন্দ্র করে বিদ্রোহী হয়, তাহলে সেটা লজ্জার। কবিরা বিদ্রোহী হলে প্রেস ক্লাবে তারা প্রতিবাদ করতে পারে,কবি বন্ধন করতে পারে, তাদের সুযোগ সুবিধা এবং অধিকার আদায় করার জন্য।

কবিরা সমাবেশ করতে পারে তাদের লেখা বই সরকারী ভাবে প্রকাশ করে তাহা বিকাশের সুযোগ করে দেওয়ার জন্য। এমন কি কবিদের জন্য ভাতা ও চালু করার দাবী আসতে পারে। আর প্রকাশকের জন্য নতুন আইনের ব্যবস্থার দাবী আসতে পারে, সারা দেশে বই ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য।
সেদিন হয়তো বেশী দূরে নয়। কেহ না কেহ সচেতন হয়ে একত্রিত হওয়ার ডাক দিবে। তাই কবিদের কবিতা ও সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় অবদানের জন্য রাষ্ট্রীয় ভাবে সরকারী ঘোষনায় বাংলা একাডেমীর মাধ্যমে কবি ও তাদের লেখার মান যাচাই বাছাই করে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য উদ্যোগ নিতে হবে। প্রতি বছর বাংলা একাডেমির সামনে বই মেলা একবার হয়। তাহা বাড়িয়ে বছরে দুই তিনবার করতে হবে। থানায় থানায় কবিদের নতুন বই প্রদর্শনের জন্য বই মেলার আয়োজন করতে হবে সরকারী ভাবে। 

প্রকাশকদের ব্যাপারে নতুন নীতিমালা তৈরী করতে হবে। শুধু লোক দেখানো নতুন নতুন কয়জন পয়সা ওয়ালা কবিদের বই টাকার বিনিময়ে ছাপিয়ে মেলায় দেখানো চলবেনা। টিবিতে দেখানো হউক সত্যিকার অর্থে। টিবিগুলো এই ব্যপারে ব্যাপক উদ্যোগ নিতে হবে। প্রকাশিত ভালো বইটি যেন,বেঁচে থাকে, সব সময়। সারাদেশের পুস্তকালয়ে। কবিদের নিয়ে তাদের কথা বলার সুযোগ করে দিতে হবে।নব লেখকদের নব নব বই ক্রয়ে সারাদেশের বিক্রতাদের বাধ্য করতে হবে। তাহলে তৃনমূলের সবাই পড়ার সুযোগ পাবে। কবি ও তার লেখার বিকাশ অব্যাহত থাকবে। তবেই কবিদের কবিতা ঝরে পড়বেনা, কবিরা কখনো মরবেনা। পাঠকে, পুস্তকে, প্রচারে তারা বেঁচে থাকবে আজীবন।

সুঁকেছে পুতুল সাজবে, অথচ কবিতার বই ময়লায় পড়ে থাকবে, এটা হতে পারেনা। আর কোন বই রাস্তায়, ফুতপাতের ধুলায় উড়বেনা, মুড়িওয়ালার প্যাকেটে কবিরা দলিত মথিত হবেনা।নেগেটিভ সংগ্রহের ব্যবস্থা করে আরো প্রকাশ করে প্রতি বছর তাহা ছাপিয়ে সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে হবে। কবিতাকে বাঁচাতে হবে। কবি বাঁচলে ভাষার উন্নতি হবে,কবিরা বাঁচলে বা বাঁচাতে সরকার সহযোগীতা করলে মানুষ হাসবে,দেশ এগিয়ে যাবে।ভাষা পাবে নতুন ভাবধারা।

বই মেলা শেষ মানে, কবির কবিতার বই শেষ, তাহা চলবেনা। বাংলাদেশে ছয়শত এর উপরে থানা আাছে। প্রত্যেক থানায় একশতটি বই পাইকারী বিক্রি করে দিলে ও লক্ষ লক্ষ টাকা আসবে।। কিন্তু নির্দিষ্ট নীতি মালা বা বাধ্যবাধকতা না থাকার কারনে কবি ও কবিতারা মরে যাচ্ছে অল্প সময়ে, অকালে। টিবি, পত্রিকা, বিভিন্ন মিডিয়ায় কবিদের কবিতা ও তার পরিচিতি, গুনাগুন ছড়িয়ে দিতে হবে। সারা দেশে প্রচার করতে হবে কবিদের বই পড়ার জন্য। বই পড়ায় উৎসাহ বাড়াতে হবে। শুধু মেলার সময় নয়, সারা বছর।সারা দেশের মানুষকে বই পড়ায় প্রেরণা জাগাতে হবে। তার পর অনুবাদ করে ভাষার ভিন্নতায় বিদেশেও পাঠাতে হবে। একদিন ঠিকই আমাদের দেশের কবিরাও নোবেল প্রাইজ নিয়ে আসবে। নিজ দেশে। দেশ ধন্য হবে। বাংলা ভাষার মর্যাদা আরো বৃদ্ধি পাবে। স্বদেশে, বিদেশে। 

আজ এ পর্যন্তই লিখলাম। সময় পেলে পাঠক ও কবিরা বললে আরো লিখবো কবিও কবিতা নিয়ে। আশা করি লেখাটি কতৃপক্ষের নজরে পড়বে। এবং শুভ উদ্যোগ নেবার মর্জি হবে।। লেখাটি সবাই পড়ার জন্য অনুরোধ রইলো। কমেন্টে জানাবেন লেখার ভালো মন্দ নিয়ে। সবাইকে ধন্যবাদ।
>>>>>> চলবে---- 
>>>>>>>(সবাইকে পড়ার অনুরোধ করছি। কমেন্টে জানাবেন পাঠকদের মতামত।