Home » , » খানসামায় তৈরি হচ্ছে উন্নত মানের আসমানী ন্যাপকিন

খানসামায় তৈরি হচ্ছে উন্নত মানের আসমানী ন্যাপকিন

চিলাহাটি ওয়েব ডটকম : 03 January, 2018 | 9:30:00 AM

নুরনবী ইসলাম, খানসামা প্রতিনিধি,চিলাহাটি ওয়েব : বাজারের এক পার্শ্বে একটি টিন সেট ঘরে একদল কিশোরী কাজ করছে। কাজের ফাঁকে মঝে মধ্যেই গল্প-হাসি ঠাট্টাও চলছে।
চিত্রটি দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার গ্রামীণ শহর পাকের হাটের ন্যাপকিন তৈরি মিনি কারখানার।
কিশোরিদের সাথে কথা বলে জানা গেল তাদের কেউ সংসারের খরচ জোগাতে, কেউবা নিজের পড়াশুনার পড়াশুনার খরচ মেটানোর পাশাপাশি পরিবারকে সহযোগিতা করতে ঘরের কাজ শেষ করে এসে আবার কেউবা স্কুল কলেজের ক্লাসের শেষে কিংবা বন্ধের দিনে ব্যাতিক্রমর্ধমী প্রচেষ্ঠা চালিয়ে যাচ্ছেন এ এলাকার কয়েকজন কিশোরী।
প্ল্যান  ইন্টারন্যাশনাল নামে একটি বেসরকারী সংস্থার সহায়তায় তারা গড়ে তুলেছে ন্যাপকিন তৈরির একটি মিনি কারখানা।
আসমানি নাম দিয়ে তৈরিকৃত স্যানেটারি ন্যাপকিন প্যাকেটজাত করার পর বিক্রয় প্রতিনিধি মাধ্যমে উপজেলার চাহিদা মিটিয়ে আশেপাশের উপজেলা গুলোতেও সরবাহ করা হচ্ছে । গত এক বছর ধরে উপজেলার গ্রামীণ শহর পাকেরহাটে একটি টিন সেট ঘর ভাড়া নিয়ে ন্যাপকিন উৎপাদন করে আসছে তারা।
কারখানাটির ভেতরে সরেজমিনে দেখা যায়, কেউ মেঝেতে বসে তুলা ছিড়ছে, কেউ সেই তুলাগুলোকে কাপড়ে মুড়িয়ে রাখছে আবার কেউবা সেই কাপড়কে সেলাই মিশিনের সাহায্যে সেলাই করছে। সেলাইয়ের পর প্যাকেটজাত প্রক্রিয়ার জন্য দুজন কিশোরীকে দেখা যায়।
জানা যায়, বিভিন্ন সময়ে এসে এই করখানায় মোট ১৫ জন কিশোরী কাজ করে, তাদের সবাই স্কুল কলেজের ছাত্রী। প্রতিদিন গড়ে ১২০-১৫০ টি ন্যাপকিনের প্যাকেট তৈরি হয় এই মিনি কারখানাটিতে। প্রতিটি প্যাকেট তারা বাজারে বিক্রি করেন ৬০ টাকা । আর প্রতিটি প্যাকেট তৈরি করতে কিশোরীরা মজুরি পায় ১৫ টাকা। দৈনিক ৩ ঘন্টা করে কারখানায় কাজ করে কিশোরীরা।
কারখানাটিতে কাজ করা উর্মি(১৭) নামে এক কিশোরী জানান, পড়াশুনার পাশাপাশি এখান থেকে যা আয় হয় তা দিয়ে সে নিজের পাড়াশুনার খরচ চালায় এবং বাকি টাকা পরিবারের জন্য মায়ের হাতে তুলে দেয়।
কারখানাটির আরেক উৎপাদন কর্মি সাবিনা ইয়াসমিন জানান, শুরুতে নানা প্রতিকূলতার মধ্যে পড়লে এখন মানুষ তাদের এই উদ্যোগকে ভাল চোখে দেখছে। স্কুলে ক্লাস শেষ করে এসে সপ্তাহে ৫ দিন বিকেল বেলা এই কারখানায় ৩ ঘন্টা কাজ করে বলে জানান, অষ্টম শ্রেনীর ছাত্রী মাহফুজা আক্তার নামে একজন।
এ বিষয়ে পাকেরহাটের শাপলা চত্বরে পূর্ব পার্শ্বে ইউনাইটেড ফার্মার মালিক এস.এম রুহুল আমিনের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আসমানি নামে ন্যাপকিন প্যাকেটটি আমাদের এলাকায় তৈরি হলেও বাজারে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।
কয়েকজন মধ্য বয়সী নারীর সাথে কথা বলে জানা যায়, স্থানীয় ভাবে তৈরি এই ন্যাপকিনের গুনগত মান অন্যান্য নামকরা ব্যান্ডের ন্যাপকিনের মতই বরং তুলনামূলক এটার দাম কিছুটা কম।
কারখানাটির প্রধান উদ্যেক্তা সেলিনা আক্তার চিলাহাটি ওয়েব ডটকমকে জানান,তাদের তৈরি ন্যাপকিনের চাহিদা দিন দিন বেড়েই চলছে। এখানে কাজ করার মধ্য দিয়ে কিশোরীরা যেমন আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছে অন্য দিকে এসব কিশোরীদের দেখে অন্যরা আত্মর্নিভরতার পথে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে।
গ্রামীণ র্পযায়ে স্বাস্থ্য সাম্মত স্যানেটারি ন্যাপকিন শতভাগ নারীদের ব্যবহার করতে উৎসাহ প্রদান, পিরিয়ডের সময় কিশোরীদের স্কুল কলেজে অনুপস্থিত রোধে এবং দরিদ্য পরিবারের বাল্য বিবাহে ঝুঁকির্পূণ কিশোরীদের র্কমস্থানের ব্যবস্থায় এই মিনি কারখানাটি অগ্রানী ভূমিকা পালন করবে বলে অভিমত প্ল্যান ইন্টারন্যাশনালের র্কতাব্যাক্তিদের।
এই মিনি কারখানাটি নিয়ে তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান উদ্যেক্তা সেলিনা আক্তারে আরো চিলাহাটি ওয়েব ডটকমকে বলেন, আমরা দ্রুতই কারখানাটিকে অবকাঠামোর দিক দিয়ে বড় করার চেষ্ঠা করতেছি এবং এখানে যাতে করে আরো অনেক কিশোরী কাজ করতে পারে সেই ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
কারখানাটিতে আরো আর্থিক বিনিযোগ বাড়ালে এবং কারখানাটি বড় করলে গ্রামীণ পর্যায়ে অনেক কিশোরী আত্মর্নিভর হবে এবং স্যানেটারি ন্যাপকিন ব্যবহারে সচেতন হবে এ অভিমত এলাকার সচেতন মহলের।