Home » » বদরগঞ্জে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে গ্রাহক হয়রানিসহ নানা অনিয়ম দূর্নীতির অভিযোগ

বদরগঞ্জে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে গ্রাহক হয়রানিসহ নানা অনিয়ম দূর্নীতির অভিযোগ

চিলাহাটি ওয়েব ডটকম : 09 January, 2018 | 11:52:00 PM

আকাশ রগমান, বদরগঞ্জ প্রতিনিধি,চিলহাটি ওয়েব : রংপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২, বদরগঞ্জ জোনাল অফিসের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে গ্রাহক হয়রানিসহ নানা অনিয়ম দূর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দাখিল করার পর দায়সারা তদন্ত করে পুরো ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। চলতি বোরো সেচ মৌসুমে উপজেলার রামনাথপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ মুকসেদপুর ডাঙ্গাপাড়া গ্রামে এঘটনা। অভিযোগ সুত্রে ও জানা যায়, বিএমডিএ-এর ডিটিডব্লিউর গভীর নলকূপের ১৭শত ফিটের মধ্যে অন্য কোন বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার নিয়ম না থাকলেও গভীর নলকূপের আওতায় ওই এলাকার আব্দুল আল মামুন, ফলি চন্দ্র, আব্দুল খালেক, ফুলকুমার ও পরিমলসহ দশটি অগভীর সেচ পাম্পে অনিয়ম করে বিদ্যুৎ সংযোগ দেন পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের অসাধু কর্মকর্তারা। এই সুবাধে অগভীর সেচ সংযোগ কারীরা নিজস্ব ক্যাবলের মাধ্যমে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে জমজমাট ব্যবসা চালিয়ে আসছে। তাদের অবৈধ সংযোগের তারগুলো মাটি হতে মাত্র ৩/৪ ফুট উচুঁ দিয়ে টানানো হয়। এছাড়াও বিদ্যুৎ অফিসের অসাধু কর্মচারীরা ওই এলাকার মামুন মিয়া ও মোহাম্মদ আলীর বাড়ীর সংলগ্নে মিটার ছাড়া একটি বিদ্যুৎ পোলের মুল সংযোগ থেকে ৩ফুট উচুঁতে কার্টাউটের মাধ্যমে সংযোগ দেন। অপরদিকে বিদ্যুৎ অফিসকে ফাঁকি দিয়ে অবৈধ সেচ সংযোগকারীরা ওই বিদ্যুৎ পোলের মুল সংযোগ দিনের বেলা খোলা রাখে। আবার রাতে তারা মাসোহারা চুক্তিতে অটো রিক্সা, অটো ভ্যান ও অটো চার্জারে চার্জ দেন। তারা দূর্ঘটনা এড়াতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট ধরণা দিয়েও কোন ফল পায়নি। এ ব্যাপারে গভীর নলকূপের অপারেটর গোলাম রব্বানী প্রামানিক অবৈধ সংযোগের বিরুদ্ধে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ বদরগঞ্জ জোনাল অফিসে অভিযোগ করেন। তার অভিযোগের ভিত্তিতে ওই অফিসে ইন্সপেক্টর আহসান হাবীব দায়সারা তদন্ত করেন এবং আজ-কাল করে কালক্ষেপন করে আসছেন। এবিষয়ে অভিযোগকারী গোলাম রব্বানী সাংবাদিকদের বলেন, বরেন্দ্র মাল্টি পারপাস ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (বিএমডিএ)-এর অগভীর দশটি নলকূপ (সেচ পাম্প)-এ বিদ্যুৎ সংযোগ দেন ওই সমিতি। আমি প্রতি বোরো মৌসুমে নিজের অর্থায়নে আমার ডিটি ডব্লিউর মাঠ এলাকায় পানির ড্রেন সংস্কার করি। কিন্তু এসটি ডব্লিউর গ্রাহকগণ আমার ড্রেন ব্যবহার করে আমার ব্যবসার ব্যঘাত সৃষ্টি করছে। এছাড়াও তারা বিভিন্ন সময় এক পোলের মিটার ব্যরেলো ট্রান্সমিটার অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার জন্য চেষ্টা করে থাকে। ইতিমধ্যে শ্রী ফুল কুমার তার মিটার অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছে। যার হিসাব নাম্বার-২৭৪/১১১০, এবং আব্দুল্লাহ আল মামুন নামে একজন সেচ গ্রাহক অন্য এলাকার মিটার আমার মাঠ এরিয়ায় নিয়ে এসেছে। যাহার হিসাব নাম্বার-২৭৪/১৩৩৫, এবং শ্রী পরিমল চন্দ্র যাহার মিটারটি আমার ডিটিডব্লিউ এলাকার অদুরে চৌরীরর বিলে পাড়ে অবস্থিত হলেও ড্রপ তারের মাধ্যমে আমার আউট লেটের সঙ্গে আমার সেচ কাজে বিঘœ সৃষ্টি করে আসছে। যাহার হিসাব নাম্বর-২২১/১০০৩। অন্যদিকে আব্দুল খালেক যার হিসাব নাম্বর-২২১/১১৯০, ও ফলি চন্দ্র যাহার হিসাব নাম্বর- ২৭৪/২৭৫৮, প্রতি মৌসুমে আমার আউট লেটের পার্শ্বে ড্রেন ও আউট লেট ব্যবহার করে বিভিন্ন প্রকার ক্ষতিসাধন করে থাকে। এ ব্যাপারে এলাকাবাসী উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। পল্লী বিদ্যুৎ-২ বদরগঞ্জ জোনাল অফিসের ডিজিএম মোঃ শওকত হোসেন বলেন, এ বিষয়ে অভিযোগ পেয়ে আমি ইন্সপেক্টর হাবীবকে তদন্তের জন্য দায়িত্ব দিয়েছি। তদন্তের রিপোর্ট পেলে বিধি মোতাবেক ওই অবৈধ সংযোগ বিছিন্ন করা হবে।