Home » » বদরগঞ্জের বৃক্ষ পাগল লালু মিয়া বেঁচে থাকতে চান বৃক্ষের মাঝে!

বদরগঞ্জের বৃক্ষ পাগল লালু মিয়া বেঁচে থাকতে চান বৃক্ষের মাঝে!

চিলাহাটি ওয়েব ডটকম Chilahati Web : 30 January, 2018 | 5:51:00 PM

আকাশ রহমান,বদরগঞ্জ প্রতিনিধি,চিলাহাটি ওয়েব :সারাদেশে ছড়িয়ে পড়বে তার উৎপাদিত হাঁড়ি ভাঙ্গা আমের চারা। এই প্রত্যাশা নিয়ে তিনি কেবল নাম মাত্র মুল্যে বিক্রি করছেন রংপুরসহ গোটা উত্তরাঞ্চলের বিখ্যাত হাঁড়িভাঙ্গা আমের চারা গাছ। এর জন্য নিজের নাওয়া খাওয়া ছেড়ে নার্সারীতে দিনরাত কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছেন লালু মিয়া (৪৫) নামে অক্ষর জ্ঞানহীন মানুষটি। এ অঞ্চলের তিনি একমাত্র বৃক্ষ পাগল যিনি কিনা ক্ষুদ্র পরিসরেই লক্ষ লক্ষ চারা গাছ উৎপাদন করে দেশের সব’কটি জেলায় পৌছে দেওয়ার উদ্দ্যোগ নিয়েছেন শুধু মাত্র উৎপাদন খরচ নিয়েই। তাই তিনি দেশের ফলজ ও বনজ চারা ক্রেতাদের কাছে সার্বিকভাবে সহযোগীতা কামনা করেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার লোহানীপাড়া ইউনিয়নের ভেড়ভেড়ি নয়াপাড়ার মৃত ঈমান আলীর ছেলে লালু মিয়া (৪৫)। গত ১০বছর পর্বেও তিনি ছিলেন একজন দিনমজুর। লোকের বাড়ীতে একদিন কাজ না করলে তার পেটে ভাত জুটতনা। সে সময় একজনের পরামর্শে তিনি বিভিন্ন নার্সারী থেকে চারা গাছর ক্রয় করে তা বাজারে বিক্রি করত। এভাবে ধিরে ধিরে তার সংসারে স্বচ্ছলতা ফিরে এলে তিনি অন্যের ২বিঘা জমি বর্গা নিয়ে চারা উৎপাদন শুরু করেন।
প্রথমে তিনি বিভিন্ন রকমের ফলের চারা উৎপাদন করতেন। কিন্তু বর্তমান সময়ের রংপুরসহ গোটা উত্তরাঞ্চলে হাঁড়ি ভাঙ্গা আম জনপ্রিয়তায় শীর্ষে চলে আসায় তিনি এখন এই আমের চারা উৎপাদন বহাল রেখেছেন। এভাবেই একদিকে ধিরে ধিরে বেড়ে যায় তার নার্সারীর আয়তন। অন্যদিকে তার সংসারে ফিরে আসে স্বচ্ছলতা।
 মঙ্গলবার সরেজমিনে গেলে, মন্ডলপাড়া গ্রামের শিবলু লোহানী জানান, বর্তমানে উত্তরাঞ্চলের মানুষের কাছে জনপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছে হাঁড়ি ভাঙ্গা আম। লালু মিয়া ওই আমের লক্ষ লক্ষ চারা গাছ উৎপাদন করে এলাকায় চারার বিপ্লব ঘটিয়েছেন। আমের চারা বিক্রি করে তিনি এখন স্বাবলম্বি হয়েছেন। চারা বিক্রির টাকায় চলছে তার ৪ ছেলে মেয়ের লেখাপড়া। তিনি নিরক্ষর হলেও ছেলে মেয়েদের নিরক্ষরের অভিশাভ থেকে মুক্ত করার প্রয়াস চালাচ্ছেন। তিনি ইতি মধ্যে ক্রয় করেছেন প্রায় ২একর ধানি জমি। জীর্ণ কুঠির ভেঙ্গে তিনি গড়েছেন দালান বাড়ী। এখন তার সংসারে নেমে এসেছে সুখ স্বাচ্ছন্দ। লালু মিয়ার ঘনিষ্টরা বলেন, লালু মিয়া স্বপ্ন দেখেন তিনি এই সুমিষ্ট হাঁড়ি ভাঙ্গা আমের চারা গাছ দেশের প্রতিটি জেলায় উপজেলায় পৌছে দিবেন। যাতে করে সুমিষ্ট হাঁড়িভাঙ্গা আমের স্বাদ নিয়ে লোকজন লালু মিয়াকে স্মরণ করেন। এভাবেই এই বৃক্ষ প্রেমিক লালু মিয়া আমের চারার মধ্য দিয়ে মানুষের অন্তরে বেঁচে থাকার ইচ্ছা পোষন করেন। হাঁড়ি ভাঙ্গা আমের সফল চারা উৎপাদনকারী লালু মিয়ার সাথে আলাপকালে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন; এখন অন সিজেনে আমার নার্সারীতে রয়েছে প্রায় ৫০হাজার সুষ্ঠ সবল চারা গাছ। এছাড়াও আগামী মৌসুমের জন্য দেড় থেকে ২লাখ আমের চারা উৎপাদন করতে ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। যদি কোন চারা গাছ ক্রেতা বা মাধ্যম পাই তাহলে আমার উৎপাদিত ওই সব চারা গাছ গুলো ক্রেতাদের মাধ্যমে দেশের ৬৪টি জেলায় আমি পৌছে দিতে পারব। এজন্য বনজ ও ফলজ চারা ক্রেতা ও যোগাযোগ মাধ্যমের সহযোগীতা কামনা করছি।
তিনি আরো বলেন; আমার নার্সারীর একেকটি চারা গাছের শতভাগ নিশ্চয়তা রয়েছে। রোপনের পর চারা গাছ মরে গেলে পুনরায় ওই স্থানে বিনা পয়সায় চারা রোপন করে থাকি। আমার উৎপাদিত বড় সাইজের একটি গাছ ৬০-৭০ টাকাও স্ট্যাম্প চারা গাছ ৩৫-৪০টাকায় বিক্রি করা হয়। আমি লাভের আশায় এসব করিনা শুধু উৎপাদন খরচ পুশিয়ে উঠলেই আমার স্বার্থকতা।
বর্তমানে আমার নার্সারী দেখে দেশের হাজারো শিক্ষিত বেকার যুবক এই উদ্যোগ গ্রহণ করে বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্তি পেতে পারেন।
এবিষয়ে; বদরগঞ্জ উপজেলা বিট কর্মকর্তা আক্তারুজ্জামান জানান; বৃক্ষ পাগল লালু মিয়ার হাঁড়ি ভাঙ্গা আমের নার্সারীর ব্যাপারে খোঁজখবর নেয়া হয়েছে। কিন্তু তিনি এখন পর্যন্ত নার্সারী মালিক সমিতির রেজিষ্ট্রেশন ভুক্ত হননি। তাই তিনি সরকারী সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। নার্সারীর রেজিষ্ট্রেশনভুক্ত হলে তিনি অনেক সরকারী সুযোগ সুবিধা পেতে পারেন।
শেয়ার করুন :