Home » » পঞ্চগড়ে গ্রীন মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটির সভাপতির বিরুদ্ধে দূর্নীতির অভিযোগ

পঞ্চগড়ে গ্রীন মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটির সভাপতির বিরুদ্ধে দূর্নীতির অভিযোগ

চিলাহাটি ওয়েব ডটকম News Editor : 29 January, 2018 | 11:40:00 PM

আমির খসরু লাবলু,পঞ্চগড় ব্যুরো,চিলাহাটি ওয়েব : পঞ্চগড়ে গ্রীন মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড নামে একটি বেসরকারি সংস্থার আমেরিকান প্রবাসী সভাপতি হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে দূর্নীতি, নারী কেলেঙ্কারী এবং অবৈধভাবে সভাপতি পদ দখলের অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রতিষ্ঠানটির সাড়ে চার হাজার সদস্য জামানত হারানোর আশংকা করছেন। বিষয়টির সমাধান ও সভাপতির বিচারের জন্য জন্য পঞ্চগড় সমবায় অধিদপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন এই সংস্থার নারী কর্মী ও সাধারন সদস্যরা। সদস্যদের আমানত ফেরত এবং চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীরের সভাপতি পদ প্রত্যাহার করে তার বিচারের দাবি জানিয়েছেন গ্রীন মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। লিখিত অভিযোগে জানা গেছে, সমবায় অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নিয়ে ২০১০ সালে পঞ্চগড় শহরের রৌশনাবাগ এলাকায় গ্রীন মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড নামে সংস্থাটির অফিস স্থাপন করা হয়। সংস্থাটির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী শুধুমাত্র পঞ্চগড় জেলার নাগরিকগন এই সংস্থার সদস্য হতে পারবেন এবিং কমিটির বিভিন্ন দায়িত্বে থাকবেন। কিন্তু সংস্থাটির সভাপতিসহ পরিচালনা কমিটির তিন সদস্য এই জেলার নাগরিক নয় এবং তারা তিনজনই একই পরিবারের সদস্য। তারা ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গি উপজেলার লাহিরীহাট এলাকার বাসিন্দা। তিনি স্ত্রীসহ আমেরিকা প্রবাসী। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী পরিচালনা কমিটির প্রত্যেক সদস্য ৫’শত টাকা সংস্থা থেকে গ্রহণ করতে পারবেন। কিন্তু সভাপতি প্রতি মাসে ৪০ হাজার টাকা গ্রহণ করেছেন। সংস্থার ব্যাংক হিসাবও তিনি নিজের নামে পরিচালনা করছেন যা সমবায় আইনের পরিপন্থি। এদিকে সংস্থার কয়েকজন নারী সদস্য অভিযোগ করেছেন , সভাপতি হুমায়ুন করিব বছরে কয়েকবার দেশে এসে সংস্থার কার্যক্রম দেখাশোনার সময় নারী কর্মীদের বিভিন্নভাবে লোভ লালসা দেখিয়ে অবৈধভাবে সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। তার অফিসে মহিলা কর্মিদের জিম্মি করে অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত হতে বাধ্য করেন। তার এই অবৈধ কার্যলাপের ভয়ে অনেকেই চাকুরি ছেড়ে দিয়েছেন। নাম গোপন রাখার শর্ত দিয়ে এক নারী কর্মী বলেন, একদিন তিনি আমাকে উপরে ডেকে নেয় এবং তার শরীর টিপে নেয়। আমি চাকুরী হারানোর ভয়ে তার শরীর টিপে দিতে বাধ্য হই। লিখিত অভিযোগে আরো জানা গেছে, জেলার হত দারিদ্র মানুষের জমানো আমানত তিনি দিনদিন আত্বসাৎ করছেন। কোন কাজ না করে আমেরিকায় বসে প্রতি মাসে ৬০ হাজার টাকা জোরপূর্বক সম্মানি ভাতা ও সুদের মুনাফা বাবদ লাখ লাখ টাকা নিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিষ্ঠানের নামে কোন ব্যাংক একাউন্ট না করে নিজের নামে ব্যাংক একাউন্ট করে সমিতির সব টাকা বিদেশে পাচার করছেন। অভিযোগে আরও জানা যায়, গ্রীন সমবায় বাজারে তিনি ইচ্ছেমত নিম্ন মানের পণ্য নিয়ে প্রচুর অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে। অফিসের জন্য সেকেন্ড হ্যান্ড ২৫টি ল্যাপটপ কিনে নতুন ল্যাপটপের ভাউচার প্রদান করে ৫ লক্ষ ২০ হাজার টাকা নিয়েছেন। তিনি ভুয়া কাগজ পত্র দিয়ে চেয়ারম্যানের পদ ধরে রেখেছেন। তার দাপটে কেউ কথা বলতে পারেন না। পঞ্চগড় গ্রীন মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার এনামুল ইসলাম জানান, সভাপতির বিরুদ্ধে বেশ কয়েকজন মহিলা কর্মী ও সদস্যদের লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তিনি টাকা পাচার, নিম্নমানের পন্য কেনাসহ নানা দুর্নীতিতে তিনি আমাকে বাধ্য করেছেন। কারন আমি এই সংস্থায় চাকুরী করি। এদিকে সভাপতি হুমায়ুন কবিরের সাথে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সম্পূর্ন মিথ্যা। একটি মহল আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। আমি এ বিষয়ে একটি সংবাদ সম্মেলন করবো। পঞ্চগড় সদর উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মামুন কবির জানান, সংস্থাটির কার্যক্রম ভালই চলছিল। ইতোমধ্যে মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে সংস্থাটির শেয়ার মূলধন ও সদস্যদের সঞ্চয় দাড়িয়েছে প্রায় দুই কোটি টাকা। সম্প্রতি সভাপতির বিরুদ্ধে নানা রকম অভিযোগ পাওয়া গেছে। সংস্থাটির আগামী সাধারন সভায় বিষয়টির চুড়ান্ত সমাধান হবে।
শেয়ার করুন :