Home » » সৈয়দপুরে তিন ফসলি জমিতে গড়ে উঠছে ইট ভাটা

সৈয়দপুরে তিন ফসলি জমিতে গড়ে উঠছে ইট ভাটা

চিলাহাটি ওয়েব ডটকম : 27 December, 2017 | 11:45:00 PM

এম এ মোমেন, নীলফামারী ব্যুরো,চিলাহাটি ওয়েব : নীলফামারীর সৈয়দপুরে সম্প্রতি দুই ও তিন ফসলি জমিতে ইট ভাটা স্থাপনের হিড়িক পড়েছে। অভিযোগ উঠেছে পরিবেশের ছাড়পত্র ছাড়াই স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও কৃষি বিভাগকে ম্যানেজ করে গড়ে উঠছে এসব ইট ভাটা। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছে কৃষি বিভাগ। উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নে প্রায় ২০টি ইট ভাটা রয়েছে। এছাড়াও বোতলাগাড়ী ও বাঙ্গালীপুর ইউনিয়নে বেশ কিছু ইট ভাটা রয়েছে। বুধবার (২৭ ডিসেম্বর) সরেজমিন বাঙ্গালীপুর ইউনিয়নের বালা পাড়া গ্রামে লক্ষনপুর স্কুল ও কলেজ সংলগ্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, সোহরাব হোসেনের মালিকানাধিন একটি নতুন ইট ভাটা তৈরীর প্রস্তুতি চলছে। সদ্য ধান কাটা জমি থেকে ট্রাক্টরে মাটি কাটা, ইট রাখার জন্য খলান তৈরি করছে ৩০-৩৫ জন শ্রমিক। পুরো ইট ভাটাটি স্থাপন করা হচ্ছে বরেন্দ্র বহুমুখি সেচ প্রকল্প এলাকায়। এই প্রকল্পে জমির পরিমান প্রায় ১০০ একর। সেখানে কিছু জমিতে আলু, রসুন, সরিষাসহ বেশ কিছু ফসল লাগানো হয়েছে। সেখানে অবস্থান কালে কথা হয় কয়েকজন জমির মালিক ও এলাকাবাসীর সাথে। জমির মালিক দুলাল, বিমল ও নরেশ জানান, হামরা এইলা জমিত বছরে দিন বার আবাদ করি। ২ বার ধান আর আলু, কপি, সইশা আবাদ করি। ভাটার হইলে হামার জমিত আর আবাদ হইবেনা। হামাক না খেয়া থাকির নাইকবে। ইট ভাটা মালিক সোহরাব হোসেন বলেন, আমি নিয়ম মেনে ইট ভাটা করছি। নিউজ করে কিছুই হবেনা। বরেন্দ্র বহুমুখি সেচ প্রকল্পের ইজারাদার স্বপন জানান, এখানে বরেন্দ্র সেচ প্রকল্পের আওতায় ১০০ একর জমি রয়েছে। ইট ভাটা করায় আবাদী জমি গুলোতে চাষাবাদ বন্ধ হয়ে যাবে। এর ফলে সেচ প্রকল্প বন্ধ হওয়ার কারনে সরকার রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হবে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে লক্ষনপুর স্কুল ও কলেজর একজন শিক্ষক জানান, ইট ভাটা চালু হলে স্বাস্থ্য ঝঁঁকিতে পড়বে ছাত্রছাত্রীসহ এলাকার মানুষ। এর মধ্যে অন্যতম চোখের রোগ ও শ্বাষকষ্ট। এছাড়াও এলাকার ফসলের উপড় পড়বে বিরুপ প্রভাব। সৈয়দপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হুমায়রা মন্ডল জানান, দুই বা তিন ফসলি জমিতে ইট ভাটার জন্য আমরা কোন ছাড়পত্র দেইনি।