Home » » বদরগঞ্জে চিকলী নদীর অবৈধ বালু মহলের নেপথ্যে কারা?

বদরগঞ্জে চিকলী নদীর অবৈধ বালু মহলের নেপথ্যে কারা?

চিলাহাটি ওয়েব ডটকম : 22 December, 2017 | 11:24:00 PM

আকাশ রহমান, বদরগঞ্জ প্রতিনিধি,চিলাহাটি ওয়েব : রংপুরের বদরগঞ্জে প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে চিকলী নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলণ করছে একটি প্রভাবশালী মহল। অব্যাহত বালু উত্তোলনের ফলে লোক সমাজ ও নদী প্রকৃতির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। তথাপিও বিভিন্ন প্রশাসনিক দপ্তরে একের পর এক অভিযোগ করেও বালু উত্তোলণ বন্ধ হচ্ছেনা। যার ফলে সচেতন মহলে প্রশ্ন উঠেছে চিকলী নদীর অবৈধ বালু মহলের নেপথ্যে রয়েছে কারা? কাদের মদদে দীর্ঘদিন ধরে উত্তোলণ করা হচ্ছে কোটি কোটি টাকার বালু?
 খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার বুকচিরে বয়ে যাওয়া যমুনেশ্বরী, চিকলী ও করতোয়া নদীর ডজন খানেক পয়েন্টে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বালু উত্তোলণ করছেন স্থানীয় প্রভাবশালীরা। মূলত বদরগঞ্জের অর্ধ শতাধিক ইটভাটা, বিভিন্ন স্থানাপনা সড়ক নির্মাণকে কেন্দ্র করে অপরিকল্পিতভাবে নদীর বালু উত্তোলন করায় যানবাহনের চাপে গ্রামগঞ্জের কাঁচাপাকা সড়কের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। এছাড়াও বালু পরিবহনের ফলে গ্রামগঞ্জের কাঁচা পাকার সড়কের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। অথচ গত এক বছরে এসব অবৈধ বালু মহল বন্ধের ব্যাপারে বিভিন্ন দপ্তরে একাধিক লিখিত অভিযোগ করেও কোন কাজ হয়নি।
 কারণ এই কাজের নেপথ্যে রয়েছে অশুভ শক্তির শুভার্শিবাদ। সে কারণে বছরের পর পর ধরে চলছে নদ-নদীর বালু উত্তোলণ। গতকাল শুক্রবার উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের পাঠানপাড়া এলাকায় চিকলী নদীতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে বালু উত্তোলনের মহোৎসব। উপজেলার নদনদী গুলোতে সরকারীভাবে বালুমহল করার অনুমতি না থাকলেও স্থানীয় পাঠানপাড়া গ্রামের বিএনপি নেতা আশরাফুল ইসলাম একটি ভুয়া কাগজপত্রের বলে দীর্ঘদিন চিকলী নদী থেকে বালু উত্তোলণ করছে। তিনি সেখানে অবৈধ বালুমহল তৈরি করে সেখান থেকে কোটি কোটি টাকার বালু বিক্রি করছে।
 এ সময় বালু উত্তোলণকারী বিএনপি নেতা আশরাফুল ইসলামের সাথে আলাপকালে তিনি দম্ভ করে বলেন, চিকলী নদী থেকে বালু তোলার জন্য উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ আমাকে লিখিত অনুমতি দিয়েছে। তার পরও আমি বদরগঞ্জ থানার পুলিশকে মাসোহারা দিয়ে চিকলী নদী থেকে বালু তুলছি। শুধু পুলিশই নয় এলাকার হোমড়া চোমড়া সবাইকে কিছু কিছু করে টাকা পয়সা দিয়ে সামলাতে হয়। এত কিছুর পরও আমার নামে ৩/৪টি মামলা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন আমার নামে যতই মামলা করুক আমি বালু তোলা বন্ধ করব না। 
প্রশাসনের ক্ষমতা থাকলে তারা যেন আমার ড্রেজার মেশিনটি বন্ধ করে। এ বিষয়ে বদরগঞ্জ থানার ওসি আখতারুজ্জামান প্রধান বলেন, কোন বালু উত্তোলণকারীকে ছাড় দেয়া হবেনা। সব বালুর পয়েন্টের লোকজনের নামে পর্যায়ক্রমে মামলা হচ্ছে। ইতিমধ্যে বালু উত্তোলণের কিছু মালামাল জব্দ করা হয়েছে।