Home » » সৈয়দপুরের ১১০টি হরিজন পরিবারের স্বাভাবিক জীবনে ফেরা অনিশ্চিত

সৈয়দপুরের ১১০টি হরিজন পরিবারের স্বাভাবিক জীবনে ফেরা অনিশ্চিত

চিলাহাটি ওয়েব ডটকম : 25 November, 2017 | 1:24:00 AM

এম এ মোমেন, নীলফামারী ব্যুরো,চিলাহাটি ওয়েব : নীলফামারীর সৈয়দপুরের ১১০টি হরিজন পরিবারের স্বাভাবিক জীবনে ফেরা অনিশ্চিত। খাবারের হোটেল থেকে শুরু করে সেলুনে প্রবেশে করতে দেওয়া হয় না এই সম্প্রদায়ের লোকদের। এমনকি টাকার বিনিময়ে কেউ ভাড়া দেয় না বাসা। মূলত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজের সাথে সম্পৃক্ত এই সম্প্রদায়ের লোকরা। শহরের তামান্না সিনেমা হল সংলগ্ন, পাওয়ার হাউস এলাকা, অফিসার্স কলোনী, সুরকী মহল্লা, নতুন বাবুপাড়া এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, শহরের রেল লাইনের রেস্টুরেন্টগুলোতে প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না হরিজনদের। রেললাইনের ওপর বসিয়ে গ্লাসে চা ঢেলে খাওয়ানো হয়। টাকার বিনিময়ে খাবার খেতে হয় রেস্টুরেন্টের বাইরে বসে। এই এলাকাগুলোতে বসবাস করে হরিজন সম্প্রদায়ের প্রায় ১১০টি পরিবার। হরিজনরা শুধু সামাজিকভাবে নির্যাতিত নয়, কাজের ক্ষেত্রেও তাদের পিছিয়ে ফেলা হচ্ছে। ওমরজিৎ নামের এক হরিজন বলেন, সৈয়দপুর হাসপাতালে দীর্ঘ দেড় যুগ ধরে কাজ করছি। শুধু ঘুষের টাকা দিতে না পারায় স্থায়ী চাকরি হয়নি। এতো সব সমস্যার মধ্য দিয়েও কেউ কেউ ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন। থেমে নেই এই সম্প্রদায়ের নতুন প্রজন্মের শিক্ষা গ্রহণ। সৈয়দপুর শহরের সুড়কি মহল্লা এলাকার স্থানীয় কলেজের ১ম বর্ষের ছাত্র সঞ্জয় বলেন, শিক্ষা গ্রহণে ওইভাবে সমস্যা না থাকলেও এই সম্প্রদায়ের লোকদের ধ্বংস করছে মাদক। প্রতিনিয়ত মদ পান আর পরিচ্ছন্নতা কাজের কারণে মানুষ হিসেবে সমাজে গ্রহণযোগ্যতা পাওয়া যায় না। বিনোদন, খেলাধুলায় নেই অংশগ্রহণ। অতি দরিদ্র বয়স্ক, বিধবা হওয়া সত্ত্বেও মিলছে না কোন ধরনের ভাতা। ইংরেজ শাসনামলে ১৮৭০ সালে সৈয়দপুরে গড়ে উঠে রেলওয়ে কারখানা। শুরুতে এ বিশাল কারখানায় অফিস, স্থাপনা ও শ্রমিক কোয়াটারে পরিচ্ছন্নকর্মী হিসেবে স্থায়ী নিয়োগ পায় হরিজনরা। পরিচ্ছন্নতার চাকরির পর বিভিন্ন বাসা-বাড়ির টয়লেট পরিস্কারে চুক্তিতে কাজ করতেন তারা। এভাবে কাজের ক্ষেত্র বাড়ায় ভারতের অনেক হরিজন এসে আশ্রয় নেয় এ শহরে। তবে কাজের অভাব দেখা দিলে অনেক পরিবার ভারতে চলে যায়। পর্যায়ক্রমে হরিজনদের সংখ্যা কমতে কমতে বর্তমানে সৈয়দপুর শহরে বিভিন্ন এলাকায় প্রায় সাড়ে ৭’শত হরিজন সম্প্রদায়ের লোক রয়েছে। অবহেলার আক্ষেপ নিয়ে হরিজন রাজেন্দ্র বলেন, ‘আমরা যদি একটা দোকান নিয়ে ব্যবসা করতে বসি। সেখানে কেউ কিছু কিনতে আসে না। এরপর কারো কাছে পানি চাইলেও দেয় না। সেলুনে চুল কাটতে গেলে নাপিত তাড়িয়ে দেয়। হোটেলে বসে তো কেউ খেতেই পারে না।’ সৈয়দপুর হরিজন কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মালুয়া বাশফোর বলেন, আমাদের সমস্যার কথা সবাই জানলেও কোন প্রতিকার আসে না কোন মহল থেকে।