Home » » নীলিমা শামীম এর একগুচ্ছ কবিতা

নীলিমা শামীম এর একগুচ্ছ কবিতা

চিলাহাটি ওয়েব ডটকম : 21 November, 2017 | 12:16:00 AM
























শীতের নীলিমায় 
 ॥ নীলিমা শামীম ॥ 

 হে বসন্তের ক্ষনিক আগে তুমি এসেছিলে মোর এই ধরনীকুলে 
মায়ের কোল জুড়ে ছয় ঋতুর এই স্বপ্নিল প্রান্তরে বসন্ত ছুলে 
শিউলী,কামিনী ফুলের কলি করে আজি শীত ছুই ছুই বায়ে
এনেছিলে বকুল ফুলের পাঁপড়ী হয়ে হিমেল হাওয়ায় দোলে 
 এসেছিলাম গন্ধরাজ ফুলের সুভাস হয়ে রমনীর সুগ্রানে 
 হেসেছিল ঝরা পাতার মুরমুরী শব্দ হয়ে মায়্রের আংগিনায় 
 বাবার চোখের মনি তুমি আলোকিত সারা ঘর ও বাড়িময়।
 অনাবিল শীতের পৃর্বাভাস হয়ে প্রেয়সীর ফুলসজ্জায় ছড়ায় 
 আজি কার্তিক ও অগ্রহায়ণের অভিভাবক হয়ে বিশালাকায় 
এসেছি ধানের শীষের স্বার্নালী রং হয়ে গ্রাম্য কুলবধুর লালিমায় 
 দাদা দাদী বলেছিল কৃষকের স্বপ্ন হয়ে কৃষানীর স্বপ্ন সুখের গোলায় 
 নানা নানি স্বপ্ন নবান্ন হয়ে গৃহস্তীর আনন্দ উল্ল্যাসের আমি নাকি সহায় 
 হে হেমন্ত তুমি এসেছ নবান্নের আমন্ত্রীত জামাই হয়ে শুন্য বুকে
মা হারা এই অশান্ত বুকে শান্তনার পশরা সাজানো গালিচায় 
এসেছি নবান্নের মেয়ে সেজে বাপের বাড়ী নাইওরী হয়ে ষরঋতুর চতুর্থ ঋতু হয়ে।
আমার আসাতে নাকি আকাশের মেঘ গুলি নীলের প্রান্ত ছুয়েছিল 
মাঝে হারিয়ে গেছে লাজে দূর দিগন্তের মাধুরি মেখে এই বাংলাকে 
সাজিয়েছি কতো না অপৃর্ব সাঝে, কতো না রুপ খোঁজে পাই হে হেমন্ত
 তোমারই মাঝে আজো তাই তোমায় বারে বারে খুজে বেড়ায়।।


 একাকীত্বে! 
------------

 অশ্রু জড়ালাম দুচোখের নেশায় ফুলদিলাম ভালোবাসায়,
 পরশ পাথরের হৃদয় মাঝে পেলাম না এতটুকু ঠাই।
কাঁদতে পারি না চোখের জল জমে হয়ে গেছে পাথর,
হাসিলেই তোমার কথা মনে পড়ে বুকে বাড়ে দুখের অঝর।

স্পন্ধনে মনে হয় অনেক টা ভেংগে পড়েছি পেয়ে মনে ব্যথা,
আমি বলবো কার নিকট জীবনের এই কষ্টের কথা ।
জীবন নয় যে যেনো কোন মণোহারি দোকানের পণ্য
ইচ্ছে করলেই কি পারা যায় ফেলে দিতে ভেবে নগণ্য ।

 ভালো লাগা ভালোবাসা যায় না কোন দরে বেচাকেনা
সুখের স্বর্গ পতিত হয় মিথ্যে ছলনায় করলে প্রতারণা ।
তুমি আছো ভাবলে মনে বাড়ে আরো ভালোবাসার জোর
তুমিহীনা নিজেকে ভাবতে হয় অন্ধকার রাত শেষে বিষাদ্বের ভোর।

ভেবে দেখছো কি জীবন নিয়ে কেমন খেলেছো পুতুল…খেলা ?
দিন যায় কথায় থেকে রাত যায় নির্জন নির্ঘুম একাকীত্বের হেলা
এমন কষ্টের নীল দরিয়ায় আমায় কেনগো এইভাবে ভাসালে ?
তোমার জীবন সাথী না বানিয়ে আমায় অকুলে কেনোগো হারালে?
সুখে থাকো দুখে থাকো আছো তোমার ভালোবাসার নীড়ে
কোন দিন খুজিতে যাবো না কোনো কষ্টের ভীড়ে ।
চোখের জলে কাঁদতে কাঁদতে হারিয়ে যাবে একদিন অভিমানি মন নিরবে,
তুমি যেখানেই থাকো ভালোবাসা রেখে গেলাম হৃদয়ের গৌরবে।।


দ্বিধা-দন্দ 
----------
 কোন স্বপ্ন সুখের নীড়ে তুমি ভুলে আছো মোরে
তুমি ভুলেও কখনো খুজে পাবেনা হায় আমারে।
 যত আশা আমার ছিলো সবি শুধুযে তোমায় ঘিরে
আমি এই অন্ধকারে খুজে খুজে মরি ওগো শুধু তোমারে 
 বুকের পাজর ছিরে দেখো, খুব যতনে রেখেছি তোমারে
আমি ভুলে গেছি সবি যত অপবাদ দিয়েছিলে আমারে।
 মনের গভীর থেকে এই দোয়া করি সুখে থাকো আমায় ছ্রেড়ে
ভালোবাসার এই মহানগরে ভিখারি হয়ে চাই বারে বারে।
 তুমি চলে গিয়েও যদি ভুলে যেতে পারো নাই কোনো দ্বিধারে 
ভুল হলো সবি আজি যে ভুল তুমি করলে আমায় অনাদরে।
 প্রেম করা ছিলো যত ভুল, তুমি তা কভু ও বুঝবেনা জানি
কোন অপরাধে অপরাধী হয়তো ছিলো এই বন্ধনে তাও মানি।


নেই আর সেই অনুভুতি 
--------------------
 জানো সখা এখন আগের মত নেই অনুভুতি
যখন ছিলে সখা সেই প্রিয়তম অজানা অভিভুতি
ভাবো কি এখনো ভালোবাসা রয়েছে তোমার প্রতি
 ভুলে গেছি রেখেছিলাম স্তরে স্তরে যত ভালোলাগা স্মৃতি।
 তোমার আলিঙ্গন ভুলেছি হলো আজ বছর তিনেক যাবৎ
 ভুলের মাসুল দিতেই জড়ালাম মিছে আশার ভাবনায় তরিৎ
আপন ভেবেই খুশিতে ভরেছিলাম তোমায় হাত দু'খানি পূর্ণ
ভিক্ষার সুখে সুখী হয়ে আত্ন গৌরবে করলে আমায় আজ শুন্য।
 কষ্ট পেলে তুমি, ভাবনায় মরি আমি তারি, কিভাবো বুঝাই তোমাই
দিনে -রাতে এখন আমি বিধাতার কাছে তোমার জন্য সুখ শুধু চাই
সপরিবারে বড়ই সুখি আছি সফলতার সহিত হয়েছি আমি পরিপূর্ণ
বিধাতা চাইলে কেবা পারে কাউকে কোনো ভাবে রাখিতে অসম্পূর্ণ।
 বিরহের কথার ঝুড়ি তোর কথাতেই সকাল বিকাল সন্ধ্যা যেতাম ভুলে
তোর খেয়ালে বসে থাকতাম তোর দেখা না পেলে।
 যখন থেকে তুই হারালি আমার জীবন থেকে 
আমার আকাশ কালো মেঘে রইল শুধুই ঢেকে।
 তোর কথাতেই হেসে খেলে ছিলাম বড্ড সুখে
অমাবস্যার কালো ছোবল কেনো জানি মারলি তুই এই বুকে।
 আঁধার রাতের মতই এখন সকাল দুপুর বিকাল আমার কাছে
পূর্ণিমার আলোয় ভাসি শুধুই জ্যোস্নার রাতের চাঁদনী হেসে। 
 তোর কথাতে আমার সুপ্ত মনে ফুল গুলো সব ফোটে,
তোর কথাতেই অভিমানের পাপড়ি গুলো ঝড়ে অবশেষে।
 তোর অবজ্ঞায় আজ আকাশে তারা জ্বলে আর নিভে
কি ভাবনায় কাদি আমি, তোর বিরহে আছি বেশ হিসেবে।।
 এখন জানি আমার জন্য নেই কিছু তোর আগের মত ভাবনা
এখন তুই ভালোবাসিস পাশের বাড়ীর ওই নীলাকাশি সুকন্যা।।

 সুপার মুন 
-------------
আজ নেমে এসেছে পৃথিবীর বুকে
 সকলের মনে জেগেছে রংগের মাখা মাখি।
স্বপ্ন জেগে হল আজ ভাললাগার ভরা পূর্ণিমা!
 পরিপূর্ণ আজ চাঁদেরকণা ভরেছে কুমারী কন্যা
 ছড়ানো জুৎস্না গুলো মিট মিট করে হাসছে!
নীলিমার নীল আকাশ তাই মধুপূর্ণতায় ভাসছে।
 কথা ছিল চাঁদের জোৎস্নায় দুজনায় রবো পাশে 
আসলে না তুমি আমি একাই আছি ছাদে বসে 
রাতটি পর করে দেবে আজ পুরোনো সব আশে। 
 গল্প শুনাবে বলে ভরা পূর্ণিমায় কই তুমি এলে 
 জোৎস্না গুলোকে সাক্ষী রেখে নিজেই হারিয়ে গেলে
তুমি কি সেই পূর্ণিমার রাতের মতই গেছো মোরে ভুলে।
 আজ চাঁদের মতো তুমিও যদি আসতে আমার কাছাকাছি
আমিও না হয় সবি ভুলে থাকতাম শুধুই তোমার পাশাপাশি
ফাকি দিয়ে গেলে চলে তুমি সেই না ফেরার দূর প্রদেশে।।

 কস্তুরি 
---------
 কস্তুরি, মোহিয়সী, আমার হৃদয়ের রানী,
অসীম ভালোবাসা তুমি কবিতা আমার,
তোমার রাজত্ব হলো চূর্ণ তুমিহীনা আমি অপুণ্য । 
হে প্রানপ্রিয়া আমার সন্তানের গর্ভধারিণী/ 
আমার রাজ্যের ভবিষ্যৎ রাজ মাতা মনোহরিনী।
ভালোবাসার জল মহল তুমি এই বুকের পাজরে
তোমার রং মহল গড়েছি কাননে কাননে
জলসা ঘরের আলোক সজ্জা তুমি প্রিয়তমা।
ছিলে কভু পিপাসিত জলসার রজকীনি 
আমার রাজত্যে হয়েছিলো তোমাতে বিলীন,
ত্যাগীলে নিজেরে সঁপিলে এই পদতলে মহিমা
মিশে আছো মোর অন্তরের অন্তস্থলে বুক পাজরে।
থাকবে অনন্ত কাল থাকো যখনি যেই ক্ষনে যার সনে,
দুচোখের স্বপ্ন তুমি আমার অনন্যা, অনামিকা, সুরঞ্জনা,
কি নামে হও আপ্লুত তুমি সুধুরীকা মোর মল্লিকা।


 বৃষ্টি ভেজা আকাশ 
--------------------
 আজ আকাশটা ভীষন মেঘাচ্ছন্ন ও বেশ Õ/ 
 সকাল টাও স্তব্দ হয়ে আছে, ফুরসত নেই রেশ...! 
 কাল ছিলো বৃষ্টি ভেজা, আজ কিছুটা শীত,
সকলি স্রষ্টার লিলা, ইহাই ধরার ঋত,,,,,,। 
 হেমন্তে প্রকৃতির এমন নিঠুর বৈরিতা,,,,,
ভোগান্তিতে উপকুলবাসী রেডিওতে সতর্কতা,। 
 শীত বৃষ্টি হিমেল হাওয়ায় কষ্ট যতই বাড়ে---
তবুও মন ছুটে চলে জীবন নদীর পাড়ে,,,,,,,,।
 দিন ভর এমন বাদলও ধারায়---------
শান্তির পরশ গাছপালা ও সবুজ পাতায়,,,,।
 সকলি তাঁর মহিমা শীত বৃষ্টি কিংবা খরা---
 বিপদসংকেত দিয়েছিল যা তা হলো আজ সারা....
 কে জানে তার মহিমা তিনিই সকল কিছুর প্রতিষ্টিয়া---
হে প্রভূ ভালো রেখো আমাদের তুমি এক ও অদ্বিতীয়া..।

 শরমে মরে ছুঁইলে
-------------------
 লজ্জাবতি নাম তাহার দেখিতে ক্ষুদ্র।
 লোকের ছোয়া পেলে অমনি মাটিতে লুটায়
কি এমন কারন আমি জানিতে চাই 
 সামান্য স্পর্শতায় লজ্জা কেন পাও ?
 দেখিতে থাকিলে সে নাহি নুয়ে মাথা 
এত টুকুন টোকা দিলে চোখ বুঝায় পাতা
চট্টগ্রামের ভাষায় তারে শরমিন্দা লতা কয়
বইয়ের ভাষায় সকলে লজ্জাবতী নামে সুধায়।
 মনির মত হয়ে যদি ফনা দিতে দেখিয়ে 
বিষাক্ত ছোবলে জানি মানব যেতো হারিয়ে 
ক্ষনিক পরেই দেখি আবার চোখ মেলে চাও 
যাচ্ছি চলে, ফিরবো-না আর তাকাতে যদি তাও।
 অনেক ঘাসের মাঝে তুমি তাকিয়ে থাকো বেশ ,
একটু নাড়া দিলেই তোমার আসে কেন আবেশ ?
তোমার মাঝে এতো লজ্জা মানব জাতির হার ,
পারো যদি একটু দিতে সকল মানুষকে ধার ! 
 মানুষের মাঝে লজ্জার ধার নাহি আজি আর/
 লতা পাতার মাঝে থাকিয়া লজ্জা হলো ভার
লজ্জাবতী পাতা তুমি মানব লজ্জাহীনা
কিছু লজ্জা নিতে পারো তুমি নির্দ্বিধায়। 

 সখা প্রিয় সই একি সুতোয় বেধে রই
-------------------------------------
হে সখা , হে প্রিয় 
দাও দাও দাও -
আঁখি কোণে জল ভরে এলো 
একবার ফিরে চাও

 বাজিয়ে বাশি এই বিজনে 
আজ এ মধুর ক্ষণে -
স্মৃতিটুকু শুধু রেখে দিও সখা, প্রিয় 
তব হৃদের কোণে ।

 নিয়তির ডাকে পাতা ঝরে যায়
সকল শূন্য করে ,
হয়তো সে পাতা ফিরে আসে ওই
প্রকৃতির কোল ভরে ।

 রাতের কান্না ঝরে যায় ভোরে শিশিরের 
সবুজ ঘাসে ঘাসে -
দু'হাতে কুড়িয়ে রেখে দিও সখা ও প্রিয় 
সইয়ের ভালোবাসার আশ্বাসে ।

 রাতের আকাশে খুঁজে নিও তারা 
হে সখা, হে প্রিয় খুজিও বৃন্দাবনে 
খোঁজো প্রিয় মোরে কোনো সমিরনে 
জানি না আর , আসব কি ফিরে
নতুন কোনো ভোরে ।
 শুধু জানি প্রিয় , দাও গোলাপের ডালি 
শেষ হয়ে গেছে খেয়া পাড়ের মালি 
বিদায়ের সুরে ভাসিয়ে দিলাম
অজানা নদীতে ভেলা ।

 আজি ভুলিব ভাবনা 
------------------

 আজি ভুলিব ভাবনা তোমারি,
 তোমাতে, আমাতে মিশে 
যতো কথা বলেছিলে তুমি
মনে রাখিনি কিছুই আমি 
অবসরে এসেছিলে, মনের মাধুরী ঢেলে 
জানতাম চলে যাবে তাই 
স্মৃতি করে মেমোরিতে রাখিনি। 
 গুড়ো গুড়ো কাচ দিয়ে তোমার ছবি 
রাখিনি বাঁধাই করে কোন স্মৃতি,
ভীতি ছিলো কেটে যাবে
ঢেকে যাবে রক্তের রঙে, 
তাই ভালোবাসিনি।।
 ছোট ছোট অন্তু দিয়ে বানিয়েছি বরনিল মেঘ
বৃষ্টির কনাতে শিলা বানিয়ে গড়েছি তাজমহল।
লিখিনি প্রেমের কবিতা, চিতা তৈরি হবে জানি
আচমকা ভেঙ্গে দেবে বুক, স্মৃতিও রাখিনি।।
 শ্রীকান্তের গান গেয়েছিলে তুমি  
আমি কিছুই শুনিনি,
অযথা এসেছিলে তুমি,
 কিছুই তোমার নাই 
তাই হৃদয়ে বুনিনি।।