Home » » বদরগঞ্জে রেলওয়ের ৭৫টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

বদরগঞ্জে রেলওয়ের ৭৫টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

চিলাহাটি ওয়েব ডটকম : 19 November, 2017 | 11:37:00 PM

আকাশ রহমান, বদরগঞ্জ প্রতিনিধি,চিলাহাটি ওয়েব : রংপুরের বদরগঞ্জে ঢোল-ঢাক পিটিয়ে রেলওয়ের ৭৫টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। গতকাল রবিবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত রেলওয়ে স্টেশন চত্ত্বর থেকে ১কিলোমিটার এলাকার মধ্যে এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ স্থাপনা, দোকানপাট ও বসতবাড়ী ভেঙ্গে দিয়ে ১৯০শতক সরকারী সম্পত্তি উদ্ধার করা হয়েছে। উচ্ছেদ অভিযানে অংশ নেন বাংলাদেশ রেলওয়ে লালমনিরহাট বিভাগীয় কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং বাংলাদেশ রেলওয়ের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। বদরগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন মাষ্টার জানান, বদরগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন চত্ত্বরের পুর্ব-পশ্চিম ২কিলোমিটার এবং উত্তর-দক্ষিণ দিকের শতশত একর সম্পত্তি ধীর্ঘদিন ধরে বেদখল রয়েছে। সরকারী সম্পত্তি পুরুদ্ধারের জন্য আমরা বাংলাদেশ রেলওয়ের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের দপ্তরে লিখিতভাবে অভিযোগ করার পর অবশেষে সামান্য কিছু সম্পত্তি উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। গত বুধবার থেকে ৪দিন ব্যাপী এলাকায় ঢোল-ঢাক পিটিয়ে ও মাইক যোগে প্রচার করে অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অনেকেই এই সরকারী নির্দেশ অমান্য করে স্থাপনা বহাল রাখে। অবশেষে রবিবার সকালে বাংলাদেশ রেলওয়ে লালমনিরহাট বিভাগীয় স্টেট অফিসার মোঃ রেজুয়ানুল হকের নেতৃত্বে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এই অভিযানে অংশ গ্রহণ করেন লালমনিরহাট রাজস্ব বিভাগের সার্কেল অফিসার মোঃ গোলাম মোস্তফা, কানুঙ্গ মোস্তাফিজার রহমান ও বাংলাদেশ রেলওয়ে লালমনিরহাট বিভাগের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য। তারা স্টেশনের পশ্চিম দিকে বালুয়াভাটা ১২নং রেলঘুমটি এলাকার ২৫টি, বালুয়াভাটা ১৩নং রেলঘুমটির ২০টি এবং স্টেশন চত্ত্বরের ৩০টি অবৈধ স্থাপনা দোকানপাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ঘরবাড়ী ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয়। এসময় ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ীরা উত্তেজনায় ফেটে পড়লে উচ্ছেদকারী স্টেশন মাষ্টারের অফিসে আশ্রয় নেয়। কিছুক্ষণ পর পরিস্থিতি শান্ত হলে পুনরায় তারা উচ্ছেদ অভিযান চালান। এবিষয়ে রেলওয়ে স্টেশন চত্ত্বরের মুদি ব্যবসায়ী মনছার আলী (৫০) , চা বিক্রেতা বাবু মিয়া (৪০) ও মাংস বিক্রেতা মোঃ আনার কসাই (৪৮) বলেন, রেলওয়ের কর্মকর্তারা শুধু লোক দেখানো উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছেন। স্টেশন এলাকার কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি শতশত একর সম্পত্তি দখল করে বাড়ীঘর নির্মাণ করাসহ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান করে আসছে। তথাপিও বেদখল হওয়া ওইসব সম্পত্তি উদ্ধার করার কোন উদ্যোগ নেই। অথচ, ছোটখাট পান দোকান, মুদি দোকান ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়ে তারা গরীর মানুষের পেটে লাথি মেরেছে। সেই সাথে আমরাও দোকানপাট হারিয়ে এখন নিঃশ্ব হয়েছি। বলতে পারেন আমরা এখন কিভাবে পরিবার পরিজন নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করব? বদরগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন মাষ্টার মোজাম্মেল হক জানান, সরকারী নিয়মনীতি ছাড়া এখানকার কতিপয় ব্যবসায়ীরা স্টেশন চত্ত্বরের যেখানে সেখানে অবৈধভাবে দোকানপাট স্থাপন করে বাধা-বিঘœ সৃষ্টি করছিলেন। আমরা রেলওয়ে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবগত করার দীর্ঘদিন পর কর্তৃপক্ষ এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন। এরপর লালমনিরহাট বিভাগীয় স্টেট অফিসার রেজুয়ানুল হক সাংবাদিকদের বলেন, বদরগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনের অধিনে শতশত একর সরকারী সম্পত্তি বেদখল হয়েছে। আমরা পর্যায়ক্রমে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে সরকারী সম্পত্তি উদ্ধারের চেষ্টা করব। কিন্তু লোকবল ও সময় স্বল্পতার কারণে আজ মাত্র ৭৫টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে ১৯০শতাংশ সম্পত্তি উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এই উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত চলবে।