Home » » নীলফামারী ৩ আসনে আওয়ামীলীগে ছয়জন জোটের জটে বিএনপি-জামায়াত

নীলফামারী ৩ আসনে আওয়ামীলীগে ছয়জন জোটের জটে বিএনপি-জামায়াত

চিলাহাটি ওয়েব ডটকম : 24 September, 2017 | 12:47:00 AM

এম এ মোমেন, নীলফামারী ব্যুরো,চিলাহাটি ওয়েব : নীলফামারী জেলার জলঢাকা ও কিশোরীগঞ্জ উপজেলার আংশিক নিয়ে গঠিত নীলফামারী-৩ আসন এবং এটি জাতীয় সংসদের ১৪ নম্বর আসন। একাদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন দলের নেতারা মনোনয়নের প্রত্যাশায় কাজ করছেন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগে অন্তত ছয় জনের নাম শোনা যাচ্ছে। 
এতে দলের মধ্যে এক ধরনের অস্থিরতা রয়েছে। অন্যদিকে জামায়াতের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এ আসনে দলটি বিএনপির সঙ্গে জোটের কারণে প্রার্থী দেওয়ার ক্ষেত্রে বাধার মুখে পড়তে পারে। কারণ বিএনপি নেতারা দাবি করছেন, এখানে দলের সাংগঠনিক অবস্থা আগের তুলনায় ভালো। স্থানীয় নির্বাচনেও দল ভালো করেছে।
 সে কারণে এবার দলের প্রার্থী চাইবেন তাঁরা। এ ছাড়া জাতীয় পার্টিতেও মনোনয়নপ্রত্যাশী দুজনের নাম শোনা যাচ্ছে। এর মধ্যে একজন সাবেক সংসদ সদস্য। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করতে পারেন এমন একজনের নামও শোনা যাচ্ছে, যিনি জামায়াত সমর্থিত।
 নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে: নীলফামারী-৩ আসনে রয়েছে ১৪টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা। এর মধ্যে জলঢাকা উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় ভোটার সংখ্যা দুই লাখ সাত হাজার ৯৫৮। কিশোরীগঞ্জ উপজেলার তিনটি ইউনিয়নে রয়েছে ৫৩ হাজার ৪৮৮ ভোট। এই আসনে মোট দুই লাখ ৬১ হাজার ৪৪৬ ভোটারের মধ্যে পুরুষ এক লাখ ৩১ হাজার ১৫ এবং নারী এক লাখ ৩০ হাজার ৪৩১ জন। আসনটির বর্তমান সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগের গোলাম মোস্তফা। এ আসনে হয়ে যাওয়া ১০টি নির্বাচনের বেশির ভাগই সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াত ও মুসলিম লীগের প্রার্থী। 
সারা দেশে স্বাধীনতাবিরোধীদের যে কয়েকটি শক্ত অবস্থান রয়েছে, এর মধ্যে নীলফামারী-৩ আসন অন্যতম। আগের নির্বাচনগুলোর ফল অনুযায়ী, এককভাবে নির্বাচন করে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী ১ম, ৫ম ও ১০ম নির্বাচনে জয়ী হন। নবম সংসদে নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টির প্রার্থী। ৪র্থ সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি, ৬ষ্ঠ সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জয়ী হয়। স্বাধীনতাবিরোধী মুসলিম লীগ ২য়, জামায়াত ৩য়, ৭ম ও ৮ম সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়। 
আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী যাঁরা : বর্তমান সংসদ সদস্য উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য গোলাম মোস্তফা, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মমতাজুল হক, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আনছার আলী মিন্টু, উপজেলার গোলনা ইউনিয়ন পরিষদের দুবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান কামরুল আলম কবির ও উনসত্তরের আইয়ুববিরোধী আন্দোলনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রনেতা এ কে এম শহীদুল ইসলাম মনোনয়ন চাইতে পারেন বলে জানা গেছে।
বিএনপি : জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কেন্দ্রীয় বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক (রংপুর বিভাগ) শিল্পপতি মো. সামসুজ্জামান।
জামায়াত : জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা আজিজুল ইসলাম প্রার্থী হওয়ার কথা জানিয়েছেন। 
জাতীয় পার্টি : সাবেক সংসদ সদস্য ও মুসলিম লীগ নেতা কাজী আব্দুল কাদেরের ছেলে কাজী ফারুক কাদেও, জেলা জাতীয় পার্টির সদস্যসচিব সাজ্জাদ পারভেজ ও মেজর (অব.) রানা মোহাম্মদ সোহেল মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন বলে আলোচনা রয়েছে।
স্বতন্ত্র : জামায়াতের জামায়াতের সহযোগী সদস্য দুবারের নির্বাচিত জলঢাকা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শিল্পপতি সৈয়দ আলী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য মাঠে রয়েছেন। ইতিমধ্যে তাঁর শুভেচ্ছাসংবলিত পোস্টার নির্বাচনী এলাকার সবখানে লাগানো হয়েছে।