Home » » নীলফামারী ২ আসনে আওয়ামী লীগে নূরের বিকল্প নেই-বিএনপি-জামায়াতে টানা পোড়ন

নীলফামারী ২ আসনে আওয়ামী লীগে নূরের বিকল্প নেই-বিএনপি-জামায়াতে টানা পোড়ন

চিলাহাটি ওয়েব ডটকম : 22 September, 2017 | 11:00:00 AM

এম এ মোমেন, নীলফামারী ব্যুরো,চিলাহাটি ওয়েব : একাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নীলফামারী জেলার ৪টি সংসদীয় আসনে আওয়ামীলীগ থেকে একাধিক প্রার্থীও নাম শোনা গেলেও ব্যতিক্রম শুধু নীলফামারী-২ আসন। জেলার সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত এ নির্বাচনী এলাকাটি জাতীয় সংসদের ১৩ নম্বর আসন। 
এ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর পর পর তিনবার নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর বিকল্প কোনো প্রার্থী নেই। দলের স্থানীয় কোনো নেতাও মনোনয়ন চান না। 
বিএনপি ও জামায়াতেও একজন করে নেতা আছেন, যাঁরা মনোনয়ন চান। এ ক্ষেত্রে জোটগত নির্বাচন হলে প্রার্থী নিয়ে বিএনপির সঙ্গে দলের নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক দল জামায়াতের টানাটানি হতে পারে। জাতীয় পার্টিও এ আসনে প্রার্থী দেওয়ার কথা ভাবছে না। বিভিন্ন দলের স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে: ১৫ ইউনিয়ন ও এক পৌরসভার নীলফামারী-২ আসনে ভোটার সংখ্যা দুই লাখ ৭৫ হাজার ৩০৯। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার এক লাখ ৩৭ হাজার ৭৯৪ ও নারী ভোটার এক লাখ ৩৭ হাজার ৫১৫। এই আসনে ১ম, ২য়, ৮ম, ৯বম ও ১০ম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী বিজয়ী হন। 
পঞ্চম সংসদে আওয়ামী লীগের সমর্থনে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) প্রার্থী নির্বাচিত হন। জাতীয় পার্টি ৩য়, ৪র্থ, ৭ম এবং বিএনপি ৬ষ্ঠ সংসদ নির্বাচনে (১৯৯৬, ১৫ ফেব্রুয়ারি) জয়লাভ করে। আওয়ামী লীগ: দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জেলায় আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে নীলফামারী-২ আসনের সংসদ সদস্য সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরকে বলা হয় অভিভাবক। তিনি ছাড়া দলের অন্য কোনো নেতা মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন না। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও নীলফামারী পৌরসভার পর পর পাঁচবারের নির্বাচিত মেয়র দেওয়ান কামাল আহমেদ বলেন, সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর আমাদের মুরব্বি, আমাদের অভিভাবক। 
তিনি এলাকার ব্যাপক উন্নয়ন করছেন। নূর ভাই যত দিন নীলফামারী-২ আসনে নির্বাচন করবেন, তত দিন আমি এ আসনে মনোনয়ন চাইব না। অন্যদিকে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মমতাজুল হক বলেন, নীলফামারী-২ আসন বাদে যেকোনো আসন থেকে আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন চাইব। জেলায় আওয়ামী লীগের রাজনীতির অভিভাবক নূর ভাই যে আসনের প্রার্থী আমি সেখানে মনোনয়ন চাইব না। জাতীয় পার্টি: জাতীয় পার্টির নেতারা মনে করেন আগামীতে জোটগত নির্বাচন হলেও আসাদুজ্জামান নূর মনোনয়ন পাবেন।
 এ কারণে জাপা থেকে কেউ আগ্রহ প্রকাশ করছেন না এ আসনে। ’ বিএনপি : এ আসনে বিএনপির একক মনোনয়নপ্রত্যাশী শিল্পপতি মো. সামসুজ্জামান। তিনি বর্তমানে কেন্দ্রীয় বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক (রংপুর বিভাগ) এবং জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। ২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচনে এ আসনে বিএনপি-জামায়াত জোটের প্রার্থী হয়েছিলেন জামায়াত নেতা মনিরুজ্জামান মন্টু।
 সে সময় বিএনপির প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়ায় জোটের আসন ভাগাভাগির বিষয়টি। জামায়াত : বিএনপি-জামায়াত জোটের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন চান নীলফামারী জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মনিরুজ্জামান মন্টু। এর আগে জোটের প্রার্থী হয়ে ২০০৮ সালের নির্বাচনে পরাজিত হন আওয়ামী লীগের আসাদুজ্জামান নূরের কাছে।