Home » » যমুনেশ্বরী নদীর নতুন বাঁধে বেঁচে থাকার স্বপ্ন

যমুনেশ্বরী নদীর নতুন বাঁধে বেঁচে থাকার স্বপ্ন

চিলাহাটি ওয়েব ডটকম : 04 June, 2017 | 12:17:00 AM

আকাশ রহমান, বদরগঞ্জ প্রতিনিধি,চিলাহাটি ওয়েব : স্বাধীনতা পরবর্তীকালিন সময়ে রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার বুকচিরে চলে যাওয়া যমুনেশ্বরী নদীগর্ভে বিলিন হয়েছে দিগন্ত বিস্তুর সবুজ মাঠ ও শতশত একর সোনালী শস্যের জমিন। 
ভাঙ্গন ঠেকানোর উদ্যোগ না নেওয়ায় উপজেলার মানচিত্র থেকে হারিয়ে গেছে অসংখ্য গ্রামগঞ্জ, হাটবাজার ও স্থাপানা। নব্বই দশকের পর বিভিন্ন সরকারের আমলে সরকারী ব্যবস্থাপনায় নদীর গুটি কয়েক এলাকায় নদীর পাড় ভাঙ্গন প্রতিরোধ বাঁধ স্থাপন করে অল্প সংখ্যক গ্রামগঞ্জ রক্ষা করা গেলেও বর্তমানে যমুনেশ্বরী নদী ভাঙ্গনের কবলে পড়ে উপজেলার মানচিত্র থেকে মুছে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে শতশত গ্রামগঞ্জ, ঐতিহ্যবাহী নাগেরহাট অঞ্চলের স্কুল কলেজ, মক্তব মাদরাসা, মসজিদ, মন্দির ও কালভার্ট ব্রীজসহ কোটি টাকার সেতু। বদরগঞ্জ উপজেলার ২লাখ ৫৭হাজার ৮৪৬জন মানুষের জন্য যমুনেশ্বরী নদী খুব একটা হুমকীর কারণ না হলেও এই উপজেলার দামোদরপুর, মধুপুর, বদরগঞ্জ পৌরশহরের মুন্সিপাড়া, কালুপাড়া, কুতুবপুর ও লোহানীপাড়া ইউনিয়নের বেশ কিছু এলাকার লোকজন এই নদী দ্বারা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে সর্বশান্ত হয়েছে। 
গত কয়েক বছরে অব্যাহত নদী ভাঙ্গনের ফলে লোহানীপাড়া ইউনিয়নের বৃহত্তর মাধাইখামার ও শাহপাড়া গ্রাম সম্পর্ণ রুপে নদীগর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। এসব গ্রাম বিলিন হওয়ার পর অবশেষে মাধাইখামার গ্রামে পাড় ভাঙ্গন বাঁধ নির্মাণ করে অল্প কয়েকটি পরিবারকে রক্ষা করা সম্ভব হয়। এরপর নদীভাঙ্গনের কবলে পড়ে যায় একই ইউনিয়নের শিক্ষা ও সমৃদ্ধশালী গ্রাম সাহেবগঞ্জ (বাসাবাড়ি)। সেখানে নদী ভাঙ্গন শুরু হওয়ার আগেভাগেই প্রতিরোধ বাঁধ নির্মাণ করে চলতি বছর ঐতিহ্যবাহী ওই গ্রামটি রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে। এবিষয়ে সাহেবগঞ্জ গ্রামের কৃষক খলিল মিয়া (৪৫) ও বিনয় চন্দ্র (৪২) জানান, চলতি বছর বাঁধ নির্মাণ করা না হলে আমাদের বাড়ীঘর বসতভিটা নদীতে বিলিন হয়ে যেত। সেইসাথে বাপদাদার বসতভিটা ছেড়ে আমাদেরকে অন্যত্র চলে যেতে হত।
 কিন্তু বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগে তৈরি করা যমুনেশ্বরী নদীর ভাঙ্গন প্রতিরোধ নতুন বাঁধ আমাদেরকে নতুন করে বেঁচে থাকার স্বপ্ন যুগিয়েছে। এসময় সাহেবগঞ্জ গ্রামের সমাজসেবক মনোয়ার হোনের শাহ রঞ্জু, শেখ সাদি শাহ সন্দেশ ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সুব্রত শাহ সাংবাদিকদের বলেন, আমাদের পার্শ্ববর্তী মাধাইখামার গ্রামে বাঁধ নির্মাণের পর আমাদের গ্রামটি হুমকীর মুখে পড়েছিল। কিন্তু বাংলাদেশ পানিউন্নয়ন বোর্ড সৈয়দপুর এর অধিনস্থ মেসার্স তাজুল ইসলাম ঢাকা এর মাধ্যমে যমুনেশ্বরী নদীতে নদীর পাড় ভাঙ্গন প্রতিরোধ বাঁধ স্থাপন করে গ্রামবাসীর দুঃচিন্তার অবসান ঘটিয়েছে।
 সেইসাথে রংপুর-দিনাজপুর সড়কে যমুনেশ্বরী নদীর উপর নির্মিত কোটি টাকার সেতটিু পুরোপুরি সুরক্ষিত হয়েছে। অন্যদিকে যমুনেশ্বরী নদী ভাঙ্গন প্রতিরোধ বাঁধ নির্মাণ কাজের সাথে সম্পৃক্ত (দায়িত্বরত) মোঃ মনিরুজ্জামান মনিরের সাথে আলাপকালে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আমরা ২০১৬সালের মার্চ মাস থেকে এখানে এই নদীতে ৮শ মিটার বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু করেছি। বাঁধ নির্মাণ কাজ প্রায় শেষের দিকে চলে এসেছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ জনিত কোন প্রকার সমস্যা না হলে আগামী জুন মাসের মধ্যে নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হবে। এরই মধ্যে বাঁধ নির্মাণের প্রাক-কালে নদীগর্ভে বিলিন হওয়ার পথে দুটি অর্ধ ভংগুর বাড়ী বাঁচানো সম্ভব হয়েছে। বাড়ি দুটি এখন স¤পূর্ণরুপে নিরাপদে আছে। 
উপজেলার লোহানীপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ এর সভাপতি আব্দুল হাই বলেন, দীর্ঘ প্রত্যাশার পর যমনেশ্বরী নদীর সাহেবগঞ্জ গ্রামে বাঁধ নির্মাণের ফলে নদী ভাঙ্গন রোধ হওয়ায় গ্রামের মানুষ এখন স্বস্তির নিশ্বাস ফেলছে।