Home » , , » বিলাসবহুল ও গতিবেগের ট্রেনে বদলে গেছে চিত্র

বিলাসবহুল ও গতিবেগের ট্রেনে বদলে গেছে চিত্র

চিলাহাটি ওয়েব ডটকম : 15 May, 2017 | 12:00:00 PM

আপেল বসুনীয়া, চিলাহাটি ওয়েব : উন্নয়নের ছোঁয়ায় বদলে গেছে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে। লাল সবুজ কোচের বিলাসবহুল ট্রেন, নতুন গন্তব্য, নতুন স্টেশন- সব মিলে রেলের সেবার মান এক লাফে বেড়ে গেছে কয়েক গুণ। উত্তরাঞ্চলের মানুষের জন্য রেল এখন বড় আশীর্বাদ। তাদের ভাষায়, বিগত সরকারের আমলে রেলের কোনো অগ্রগতি তো হয়ইনি, বরং দিন দিন ট্রেন, স্টেশন সব বন্ধ হয়ে যাচ্ছিলো।
অবহেলা অবজ্ঞায় ব্রিটিশ আমলের রেল ঝিমিয়ে পড়তে পড়তে একেবারে নিঃশেষ হতে চলেছিল। সেই রেল যেনো হঠাৎ করেই প্রাণ ফিরে পেয়েছে। মাটির নীচে তলিয়ে যাওয়া রেললাইনগুলো আবার জেগেছে কংক্রিটের সিøপারে। যার উপর দিয়ে এখন ট্রেন চলছে একশ’ কিলোমিটার গতিবেগে। দ্রুতগামী সেই ট্রেন দেখার জন্য এখন নতুন করে মানুষ ভিড় করে রেললাইনের পাশে। উত্তরের মানুষ এখন অনায়াসে নীলসাগর, একতা, দ্রুতযান, লালমণি, রংপুর এক্সপ্রেসে রাজধানীতে যাতায়াত করতে পারে। লালমনি বাদে সব ট্রেনই এখন বিলাসবহুল। রেল যোগাযোগ একেবারে সহজ হয়েছে উত্তরে চিলাহাটি থেকে দক্ষিণে খুলনা পর্যন্ত। ভারত থেকে মালবাহী ট্রেন আসছে দিনাজপুর দিয়ে।
দিনাজপুরের পার্বতীপুর, সৈয়দপুর ও চিলাহাটি এলাকা ঘুরে দেখা গেছে রেলের উন্নয়নে বদলে গেছে এসব এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা। কয়েক বছর আগেও এসব এলাকার মানুষের যোগাযোগের প্রধান বাহন ছিল বাস। ট্রেন ছিল কর্মজীবী কিছু গরীব মানুষের বাহন। সমাজের উচ্চবিত্ত তো দূরে থাক মধ্যবিত্তরাও যে ট্রেনে ভ্রমণ করবেন সে পরিবেশ ছিল না। পার্বতীপুরের বাসিন্দা ব্যবসায়ী ফারুক হোসেন চিলাহাটি ওয়েব ডটকমকে বলেন, ভ্রমণ করার মতো ট্রেন এই অঞ্চলে বহুদিন ধরেই নাই। লোকাল ট্রেন সকালে একটা বিকালে একটা চলতো। সেগুলোতে পরিবেশ বলে কিছু ছিল না।
আবার ট্রেনের সময়েরও কোনো আগা-মাথা ছিল না। 
সৈয়দপুরের বাসিন্দা ঠিকাদার মোত্তালেব হোসেন বলেন, রেল এখন অনেক উন্নত, ট্রেনগুলো এখন অনেক স্মার্ট, বিলাসবহুল। দিনাজপুর থেকে প্রতিদিন ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যাচ্ছে লালসবুজের দ্রুতযান, একতা এক্সপ্রেস। চিলাহাটি থেকে যাচ্ছে নীলসাগর। মার্চের আগেও নীলসাগর ট্রেনটি নীলফামারী থেকে চলাচল করতো।
পশ্চিমাঞ্চলের রেলওয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, ২০১০ সালে ২২৬ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প গ্রহণ করে সরকার। এই প্রকল্পের আওতায় সৈয়দপুর থেকে চিলাহাটি পর্যন্ত ৫২ দশমিক ২ কিলোমিটার রেললাইনসহ ৯টি রেলস্টেশন সংস্কার ও চিলাহাটিতে একটি ওয়াশপিটসহ অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়। রেলওয়ের এক কর্মকর্তা জানান, বর্তমান রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক এই এলাকায় এসে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির লক্ষ্যে নীলসাগরসহ সবগুলো ট্রেনকে চিলাহাটি পর্যন্ত চালানোর উদ্যোগ নেন।
 মন্ত্রীর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এখন ঢাকাগামী নীলসাগর, খুলনাগামী রূপসা, সীমান্ত এবং রাজশাহীগামী তিতুমীর সবই চলে চিলাহাটি পর্যন্ত। এতে করে নীলফামারী, ডোমার, ডিমলাসহ দেশের একেবারে উত্তরের বাসিন্দারা দারুণ উপকৃত হয়েছে। চিলাহাটি স্টেশনে গিয়ে দেখা গেছে, নতুন ভবন নির্মাণ ও রেল লাইন সংস্কার করায় বর্তমানে এ স্টেশন এক অনন্য রূপ পেয়েছে। স্টেশনের একেকটি ভবন একেক রঙে রাঙানো হয়েছে। পুরো পাটফর্ম এখন চকচকে ও পরিষ্কার। স্থানীয় বাসিন্দা মোস্তাফিজুর রহমান চিলাহাটি ওয়েব ডটকমকে বলেন, আগে স্টেশনের পাশ দিয়ে যারা নাক চেপে ধরে হাঁটতেন, এখন তারাই কেউ কেউ বিকেলে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এখানে ঘুরতে আসেন। সন্ধ্যা হলেই জ্বলে ওঠে শতাধিক বৈদ্যুতিক বাল্ব। যেগুলোর আলোতে আলোকিত হয়ে ওঠে দেশের সর্বউত্তরের এই স্টেশনটি।
 চিলাহাটি স্টেশন মাস্টার আব্দুল মতিন চিলাহাটি ওয়েব ডটকমকে জানান, যাত্রী সেবার মান বাড়ানোর জন্য সৈয়দপুর-চিলাহাটি ৫৩ কিলোমিটার রেললাইন সংস্কারের কাজ শেষে চিলাহাটি নতুন রূপ পেয়েছে। এ ছাড়াও সৈয়দপুর-চিলাহাটি সেকশনে ৯টি রেলওয়ে স্টেশন আধুনিকায়ন, চিলাহাটি স্টেশনের পরিদর্শন ঘর ও ওয়াশপিট স্থাপনে পৃথক একটি প্রকল্পের কাজও শেষ। এক সময়ের ডেড স্টেশন চিলাহাটি স্টেশনে নতুন করে করা হয়েছে যাত্রীদের ওয়েটিং রুম, স্টেশন ভবন, ইলেক্ট্রিক সাব স্টেশন, রানিং রুম (ট্রেনের স্টাফদের থাকার ঘর), নিরাপত্তা ব্যারাক, পিএক্সআর অফিস, ইঞ্জিন সেড, পানির ট্যাঙ্কি ও পানি সরবরাহ, ওয়াশ পাইপ লাইন ও কানেকটিং লাইন। তৈরী হয়েছে আবাসিক কোয়ার্টার ও অত্যাধুনিক সিগনালিং ব্যবস্থা।
জানা গেছে, চিলাহাটি থেকে হলদিবাড়ি পর্যন্ত রেললাইন স্থাপনের কাজ শেষ হলে এটি হবে বাংলাদেশ থেকে ভারতের বিখ্যাত পর্যটন কেন্দ্র দার্জিলিং যাওয়ার ট্রানজিট পয়েন্ট। অত্যাধুনিক চিলাহাটি স্টেশন যেনো সেই সব পর্যটকদের পদচারণার অপেক্ষায় তাকিয়ে আছে।