Home » » মেধাই তাদের সম্বল!

মেধাই তাদের সম্বল!

চিলাহাটি ওয়েব ডটকম : 09 May, 2017 | 12:05:00 AM

আকাশ রহমান, বদরগঞ্জ প্রতিনিধি,চিলাহাটি ওয়েব : রংপুরের প্রত্যান্ত পল্লী অঞ্চলে অবস্থিত মমিনপুর স্কুল এ্যান্ড কলেজ। চলতি বছর ওই স্কুল থেকে চারজন অতিদরিদ্র শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে দারিদ্রতাকে জয় করে জিপিএ ৫ অর্জন করেছে। শিক্ষা সরঞ্জামের পর্যাপ্ত অভাব অনাটন ও দারিদ্রতার কষাঘাতে তারা লেখাপড়ার সুষ্ঠু পরিবেশ না পেলেও নিজেদের মেধার জোরে ছিনিয়ে এনেছে গৌরবোজ্জল সাফল্য। ওই চার শিক্ষার্থী হচ্ছে মোছাঃ আখিমনি, লিতুনজিরা নিসা, নুর মোহাম্মদ ও রাবিনা আক্তার। তারা প্রত্যেকেই জিপিএ ৫ পেলেও তাদের পরিবারে এই অর্জনের কোন মূল্যায়ণ নেই। কারণ তারা চারজন অত্যান্ত শোচনীয় পরিবারের সদস্য। যাদের পরিবারে প্রতিনিয়ত নুন আনতে পান্তা ফুরায়। 

এছাড়াও এদের মধ্যে মোছাঃ আখিমনি হচ্ছে পিতৃহারা। তার মায়ের হাতেই রয়েছে সংসারের হাল। তার মা একজন নারী হয়েও পরিবার সামলানোর পাশাপাশি অতিকষ্টে দুই ছেলে ও এক মেয়ের লেখাপড়ার খরচ চালিয়ে যাচ্ছেন। অভাব অনাটনের সংসারে মাধ্যমিক পর্যন্ত মেয়ে আখির পড়ালেখা চালাতে পারলেও উচ্চ মাধ্যমিক পাস করাতে পারবেন কিনা সন্দেহ। কারণ স্বামীর মৃত্যুর পর মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েছেন তিনি। এছাড়াও মৃত স্বামীর শেষ ইচ্ছে ছিল একমাত্র মেয়েকে লেখাপড়া শিখিয়ে একজন ভাল ডাক্তার হিসেবে গড়ে তোলা। কিন্তু তাদের এই অভাব অনাটনের সংসারে মেধাই এখন আখির একমাত্র সম্বল। এব্যাপারে আখিমনি জানায়, ডাক্তার হতে হলে দেশের কোন ভাল কলেজে লেখাপড়া করতে হবে। কিন্তু আমাদের তো আর সেই সামর্থ্য নেই। তাই বদরগঞ্জ ডিগ্রী কলেজে ভর্তি হওয়া ছাড়া কোন পথ দেখছিনা। সে আরো জানায়, দেশের কোন বৃত্তবান সুহৃত ব্যক্তিবর্গ আমার পাশে এসে দাঁড়ালে আমি তার প্রতি চিরকৃতজ্ঞ হতাম। সেইসাথে আমার মেধার সঠিক বিকাশ ঘটাতে পারতাম। মোছাঃ লিতুনজিরা নিসা সেও একটি দরিদ্র পরিবারের মেয়ে। তার বাবা একজন সহকারী আইনজীবি (মহরী) এক বোন ও দুই ভাইয়ের খরচ চালাতে নাভিশ্বাস উঠেছে তার পিতার। নিজের মেয়েকে ডাক্তার হিসেবে দেখার স্বপ্ন থাকলেও ভাল কলেজে পড়ালেখা করার মত সামর্থ্য নেই তার। পরীক্ষার ফল প্রকাশ হওয়ার পর থেকে মেয়ের ভবিষ্যত চিন্তা ও নিজের অর্থনৈতিক সমস্যার কারণে অনেকটাই ভেঙ্গে পড়েছেন তিনি। 

 এদিকে দিনমজুরের ছেলে নুর মোহাম্মদ। পড়ালেখা করার মত সামর্থ নেই তার। পরিবারের লোকজনের কাজ থেকে পড়ার খরচ না পেয়ে লোকজনের কামলা কৃষানের কাজ করে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করেছিল সে। ভাল ফলাফল পাওয়ার পরেও তার মুখে হাসি নেই। কারণ দেশের কোন ভাল কলেজে পড়ালেখা করার মত অর্থ ও সামর্থ্য কোনটিই নেই তার। তাই মেধা সম্বলের উপর নির্ভর করেই ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখছে সে। নুর মোহাম্মদ একজন বুয়েট ইঞ্জিনিয়ার হতে চায়। তার এই স্বপ্ন পুরনের কোন সহযোগী পেলে সে দেশের জন্য ভাল কিছু করার সুযোগ পেত। 

 অন্যদিকে সামান্য একজন দর্জির মেয়ে হচ্ছে রাবিনা আকতার। সে লেখাপড়া শেষ করে ভবিষ্যতে শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন দেখলেও পিতার স্বল্প আয় ও অসামর্থ্যতার কারণে তা আর সম্ভব হবে কিনা সে জানে না। কারণ দুই মেয়ের ভরণ পোষন ও তাদের লেখাপড়ার খরচ চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন তিনি। মেয়েকে একটি ভাল কলেজে ভর্তি করার মত মনোবল থাকলেও আর্থিক অস্বচ্ছলতার সংশয়ে অনেকটা চিন্তিত তিনি। এমতাবস্থায় দেশের কোন বৃত্তবান ও সুহৃত ব্যক্তিবর্গ তাদের পাশে এগিয়ে এলে এই চার মেধাবীর মেধার বিকাশ ঘটার পাশাপাশি অটুট থাকত তাদের স্বপ্ন সাধ।