Home » » জলঢাকায় ব্লাস্ট রোগে ফসল নষ্ট ॥ কৃষকের মাথায় হাত

জলঢাকায় ব্লাস্ট রোগে ফসল নষ্ট ॥ কৃষকের মাথায় হাত

চিলাহাটি ওয়েব ডটকম News Editor : 08 May, 2017 | 12:40:00 AM

মনিরুজ্জামান লেবু জলঢাকা প্রতিনিধি,চিলাহাটি ওয়েব : নীলফামারীর জলঢাকায় চলতি বোরো মৌসুমে ব্লাস্ট রোগে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় কৃষকদের মাথায় হাত পরেছে। এ মৌসুমের প্রায় আবাদের সব ফসলে নষ্ট হয় কৃষকরা পরেছে বিপাকে। নতুন এ রোগে আক্রান্ত হচ্ছে অন্যান্য ফসলও। কৃষকের স্বপ্ন যাচ্ছে এখন গরুর পেটে, ভাল নেই এ অঞ্চলের বোরো চাষীরা। বোরোর মৌসুমে এবারে বাম্পার ফলন হলেও আবহাওযা জনিত কারণে ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত হয়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে ফসলের। তাই কৃষকের আশার মুখে পড়েছে হতাশায় অন্ধকারের ছাপ। নীলফামারীর জলঢাকাসহ জেলার সবকটি উপজেলায় ব্লাস্ট রোগে শত শত জমির বিআর-২৮ ও ২৯ জাতের ধান ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে। যে সময় ধানের শীষ গাছে পরিপক্ক হওয়ার কথা, সে মুহুর্তে গাছ কেটে বাজারে গবাদি পুশুর খাদ্য হিসাবে বিক্রি করতে হচ্ছে কৃষকদের। আর কিছুদিন পরেই কৃষকের স্বপ্নের ফসল পাকা ধান ঘরে তোলার কথাছিল কিন্তু কৃষকের সে আশা নিরাশায় পরিনত হয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা যায়, চলতি বোরো মৌসুমে উপজেলা ১৪১২৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ করার কথা থাকলেও চাষ হচ্ছে ১৪১৭৫ হেক্টর জমিতে। যার লক্ষমাত্রা ৫৯৬৯৬ মেট্রিক টন। প্রকৃতি অনুকুলে থাকায় লক্ষমাত্রার চেয়েও আবাদ হচ্ছে বেশি এমননি জানান উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ উপসহকারী কর্মকতারা। সরেজমিন উপজেলার পূর্ব বালাগ্রাম ইউনিয়নের কৃষক তালিমুল ইসলাম লেলিন জানান,৪৫ শতাংশ জমিতে বিআর-২৮ জাতে ধান লাগাই। ধানে শীষ আসার সাথে সাথে দেখি দিন দিন ধান গাছগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে। প্রথমে মনে হয়েছিল হয়তো পানি বা সার সংকটে এমনটা হতে পারে। কিন্তু না। সার, পানি ও কীটনাশক দেওয়ার পরেও রক্ষা করা গেলনা একই কথা জানান,৭ নং ওয়ার্ডের আতাউর রহমান,তিনি ৭৫ শতাংশ জমিতে এমন জাতের ধান লাগিয়েছেন। পশ্চিম বালাগ্রাম ৫ নং ওয়ার্ডের শ্রী সুরেশ চন্দ্র তিনিও ৪৫ শতাংশ জমিতে বি আর-২৮ জাতের ধান লাগিয়েছেন। তারও একই অবস্থা। তিনি অভিযোগ করে বলেন কৃষি অফিসের কোন কর্মকর্তা এখনও পর্যন্ত কোন পরামর্শ দিতে ধান ক্ষেতের উপর আসেনি। এ ফসলহানীতে আগামী ২/৩ মাস অনাহারে-উপোস করেই দিন পার করা ছাড়া উপায় দেখিনা। শিমুলবাড়ী ইউনিয়নের বজলূল হকের সাথে কথা হলে তারা জানান, এবারে ফসলের ফলন দেখে প্রথমে বুকটা ভরে গেছিলো। পরে রোগ ধরা পড়ায় কয়েকবার স্প্রে করেও ধান ক্ষেত রক্ষা করবার পাই নাই। এ ক্ষতি পুশিয়ে নিতে অনেক সময় প্রয়োজন হবে বলে কৃষকরা জানিয়েন।এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শাহ্ মুহাম্মদ মাহফুজুল হকের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, মাঠ পর্যায়ে আমার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা নিয়োজিত রয়েছে। তারা কৃষকদের মাঝে পরামর্শ অব্যাহত রেখেছে।
শেয়ার করুন :