Home » » বদরগঞ্জে নদনদীর বালু উত্তোলন অব্যাহত নেপথ্যে কারা?

বদরগঞ্জে নদনদীর বালু উত্তোলন অব্যাহত নেপথ্যে কারা?

চিলাহাটি ওয়েব ডটকম : 08 May, 2017 | 12:33:00 AM

আকাশ রহমান, বদরগঞ্জ প্রতিনিধি,চিলাহাটি ওয়েব : রংপুরের বদরগঞ্জে প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে বিভিন্ন নদনদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলণ করছেন প্রভাবশালী ব্যক্তিরা। অব্যাহত বালু উত্তোলনের ফলে লোক সমাজ ও নদী প্রকৃতির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। তথাপিও বিভিন্ন প্রশাসনিক দপ্তরে একের পর এক অভিযোগ করেও বালু উত্তোলণ বন্ধ হচ্ছেনা। যার ফলে সচেতন মহলে প্রশ্ন উঠেছে বালু উত্তোলনের নেপথ্যে রয়েছে কারা? কাদের মদদে উত্তোলণ করা হচ্ছে নদনদীর বালু? খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার বুকচিরে বয়ে যাওয়া যমুনেশ্বরী, চিকলী ও করতোয়া নদীর ডজন খানেক পয়েন্টে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বালু উত্তোলণ করছেন স্থানীয় প্রভাবশালীরা। মূলত বদরগঞ্জের অর্ধ শতাধিক ইটভাটা, বিভিন্ন স্থানাপনা সড়ক নির্মাণকে কেন্দ্র করে অপরিকল্পিতভাবে নদীর বালু উত্তোলন করায় যানবাহনের চাপে গ্রামগঞ্জের কাঁচাপাকা সড়কের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। এছাড়াও বালু উত্তোলনের ফলে বর্ষা মৌসুম আসার আগেই নদী ভাঙ্গন বৃদ্ধি পাওয়ায় তীরবর্তী অঞ্চলের গ্রামগঞ্জ, রাস্তাঘাট ও ফসলী জমি নদীগর্ভে বিলিন হওয়ার আশংকা করা হচ্ছে। অথচ গত এক বছরে বালু উত্তোলণ বন্ধের ব্যাপারে বিভিন্ন দপ্তরে একাধিক লিখিত অভিযোগ করেও কোন কাজ হয়নি। কারণ এই কাজের নেপথ্যে রয়েছে অশুভ শক্তির শুভার্শিবাদ। যার ফলে বছরের পর পর ধরে গরুর গাড়ির মত ধিরগতিতে চলছে নদ-নদীর বালু উত্তোলণ। গতকাল রোববার রামনাথপুর ইউনিয়নের বাগবাড় গ্রামে গিয়ে দেখা যায় স্থানীয় প্রভাবশালী মাজেদ মেম্বরের বালু উত্তোলনের দৃশ্যপট। তার লোকজন করতোয়া নদীতে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে দেদাচ্ছে বালু উত্তোলন করছেন। এসময় মাজেদ আলীর ভাগিনা আরিফুল ইসলাম (৩০) জানান, বদরগঞ্জ থানা পুলিশকে মাসোহারা দিয়ে বালু তুলতে হচ্ছে। এছাড়াও এলাকার হোমড়া চোমড়াদের প্রতি মাস কিছু কিছু করে টাকা দিতে হয়। তাহলে আমরা আর কাকে ভয় করব বলেন? রাধানগর ইউনিয়নের পাঠানপাড়া এলাকার বিএনপি নেতা আশরাফুল ইসলাম বলেন, পুলিশ প্রশাসনকে টাকা দিয়ে চিকলী নদী থেকে বালু তুলছি। এছাড়াও সবাইকে টাকা পয়সা দিয়ে সামলাতে হয়। একই এলাকার ইয়াছিন আলী বলেন, সবাইকে ম্যানেজ করেই আমি চিকলী নদী থেকে বালু তুলছি। বালু উত্তোলনের টাকা আমি একা খাইনা। আপনাদের বিকাশ নাম্বার দিয়ে যান সময় মত টাকা পাঠিয়ে দেব। কুতুবপুর ইউনিয়নের নাগেরহাট বাজারের কামরুজ্জামান (কামরু) মেম্বর বলেন, নাগেরহাট বাজারে বঙ্গবন্ধু ক্লাব প্রতিষ্ঠার জন্য যমুনেশ্বরী নদী থেকে বালু তোলা হচ্ছে। শ্রমিক খরচ বাঁচাতে প্রতিদিন দু’চার গাড়ি করে বালু বিক্রি করতে হয়। একই ইউনিয়নের নাটারাম চান্দামারী এলাকার আব্দুল হাকিম ও সোলেমান হক জানান, এই পয়েন্টে প্রতি সপ্তাহে সাংবাদিক ও পুলিশ এসে টাকা নিয়ে যায়। এছাড়াও আওয়ামীলীগের লোকজন মাঝে মধ্যে গাড়ি (ট্রলি) পাঠিয়ে বালু নিয়ে যান। অপরদিকে কালুপাড়া ইউনিয়নের বৈরামপুর বাজার এলাকার শফিউল ইসলাম (শফি) জানান, যমুনেশ্বরী নদী থেকে বালু উত্তোলন করার পর বালুবাহী যানবাহনের চাপে গ্রামের রাস্তা ঘাটের বেহাল অবস্থা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সেইসাথে আগাম নদী ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। বদরগঞ্জ থানার ওসি আখতারুজ্জামান প্রধান বলেন, কোন বালু উত্তোলণকারীকে ছাড় দেয়া হবেনা। সব বালুর পয়েন্টের লোকজনের নামে পর্যায়ক্রমে মামলা হচ্ছে। ইতিমধ্যে বালু উত্তোলণের কিছু মালামাল জব্দ করা হয়েছে।