Home » » বদরগঞ্জে যৌতুক মামলা শিক্ষকের হাজত বাস

বদরগঞ্জে যৌতুক মামলা শিক্ষকের হাজত বাস

চিলাহাটি ওয়েব ডটকম News Editor : 29 May, 2017 | 12:23:00 AM

আকাশ রহমান, বদরগঞ্জ প্রতিনিধি,চিলাহাটি ওয়েব : রংপুরের বদরগঞ্জে স্ত্রীর দায়ের করা যৌতুক মামলায় পরধন লোভী এক শিক্ষকের অনির্দিষ্টকালের জন্য হাজত বাস হয়েছে। অথচ ঘটনার ১৫দিন অতিবাহিত হলেও রহস্যজনক কারণে অভিযুক্ত ওই শিক্ষককে বরখাস্ত করা হয়নি। বাদী পক্ষের অভিযোগ রয়েছে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বরখাস্ত ঠেকাতে বিভিন্ন অফিস আদালতে দৌঁড়ঝাপ অব্যাহত রেখেছেন। এ কারণে তিনি (সহকারী শিক্ষক) এখনো বরখাস্তহীন অবস্থায় রয়েছেন। মামলা সুত্রে জানা যায়, উপজেলার মধুপুর ইউনিয়নের সন্তোষপুর মুন্সিপাড়া গ্রামের শহিদুল ইসলাম মেম্বারের ছেলে মোঃ আবু হেলাল মোস্তফা স্থানীয় সন্তোষপুর চার আনীপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন সহকারী শিক্ষক। তিনি গত ২৮মে/২০১৬ইং সালে পার্শ্ববর্তী তারাগঞ্জ উপজেলার উজিয়াল মন্ডলপাড়া গ্রামের মোঃ মোরশেদুল হকের মেয়ে মোছাঃ মুকমিনা আক্তার খুকুমনির সাথে (৮লক্ষ ৯হাজার ৯৯৯ টাকা দেনমোহর ধায্য পুর্বক) বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে ঘরসংসার শুরু করেন। কিন্তু বিয়ের কিছুদিন যেতে না যেতেই যৌতুক লোভী স্বামী ৫লাখ টাকা যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে দফায় দফায় চাপ প্রয়োগ করেন। এনিয়ে স্বামী স্ত্রীর মাঝে মনোমালিন্য সৃষ্টি হয়। এভাবে দিনের পর দিন স্বামী, শ্বশুর ও শ্বাশুড়ীর যৌতুকের চাপে খুকুমনি মানষিকভাবে ভেঙ্গে পড়েন। একপর্যায়ে তিনি যৌতুক দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তাকে লাঠিপেটা করে বাড়ী থেকে বের করে দেওয়া হয়। এঘটনার পর তিনি বাবার বাড়ীতে আশ্রয় গ্রহণ করেন। সেখানে থাকাকালিন স্থানীয়ভাবে সালিস মিমাংসা করে বিষয়টি সুষ্ঠু সমাধানের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়ে খুকুমনি গত বছরের ১০ডিসেম্বর রংপুর বিজ্ঞ আদালতে ১৯৮০সালের যৌতুক নিরোধ আইনের ৩/৪ ধারা মতে স্বামী আবু হেলাল মোস্তফা, শ্বশুর শহিদুল ইসলাম ও শ্বাশুড়ী গুলজাহান বেগমের নামে মামলা দায়ের করেন। অন্যদিকে চলতি মাসের ১৪মে তারিখে ওই মামলায় হাজিরা দিতে গেলে বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট যৌতুক লোভী শিক্ষক আবু হেলাল মোস্তফার জামিন না মঞ্জুর করে তাকে অনির্দিষ্টকালের জন্য জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এদিকে তাকে আটকের ১৫দিন অতিবাহিত হলেও ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ওয়াজেদ আলী হাজতবাসী শিক্ষককে বরখাস্ত করেননি। এবিষয়ে গতকাল রোববার সন্তোষপুর চারআনীপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ওয়াজেদ আলীর সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, সহকারী শিক্ষক আবু হেলাল মোস্তফা আমার ভাগিনা হলেও তিনি হাজতে যাওয়ার সাথে সাথে আমি বিষয়টি সম্পর্কে তাৎক্ষনিক উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে অবগত করেছি। নিয়ম মোতাবেক আবু হেলাল মোস্তফা যেদিন থেকে হাজতে গেছেন সেদিন থেকেই তাকে বরখাস্ত করা হবে। এমন কি যতদিন পর্যন্ত মামলা শেষ হয়নি ততদিন তিনি বরখাস্ত থাকবেন। বদরগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মহিউদ্দিন আহম্মেদ বলেন, হাজতবাসী ওই শিক্ষককে বরখাস্ত করার জন্য জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের (ডিপিইও) দপ্তরে লিখিত আবেদন পেশ করা হয়েছে। যা ব্যবস্থা নেওয়ার এখন তিনিই নেবেন।
শেয়ার করুন :