Home » » দিনাজপুরে অস্ত্র আইনে শীর্ষ ২ জঙ্গীর বিরুদ্ধে মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণ

দিনাজপুরে অস্ত্র আইনে শীর্ষ ২ জঙ্গীর বিরুদ্ধে মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণ

চিলাহাটি ওয়েব ডটকম : 30 May, 2017 | 11:16:00 PM

স্বরূপ বকসী বাচ্চু, দিনাজপুর ব্যুরো,চিলাহাটি ওয়েব : দিনাজপুরে চাঞ্চল্যকর শীর্ষ ২ জঙ্গীর বিরুদ্ধে দায়েরকৃত অস্ত্র মামলায় ২ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ এবং ১৯ জুলাই ৫ জন সাক্ষীকে আদালতে সাক্ষ্য দেয়ার জন্য হাজির হতে বিচারক গ্রেফতারী পরোয়ানার আদেশ প্রদান করেছেন। 
মঙ্গলবার দিনাজপুর জেলা ও দায়রা জজ হোসেন শহীদ আহমদের আদালতে এই চাঞ্চল্যকর মামলার সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য দিন ধার্য্য ছিল। মামলার আসামী শীর্ষ ২ জঙ্গী জেএমবির এহসার সদস্য গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী উপজেলার মনোহরপুর গ্রামের শাখাওয়াত হোসেনের পুত্র শরিফুল ইসলাম ওরফে ড্যানিস ওরফে জিৎ (২৮) ও লালমনিরহাট সদর উপজেলার বানভাষা গ্রামের শামসুল আলম খন্দকারের পুত্র মোসাব্বিরুল আলম খন্দকার (৩০)কে দুপুর ১২টায় কড়া পুলিশ প্রহরায় জেল কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। ২ আসামীর উপস্থিতিতে মামলার অভিযোগপত্রের ৪ ও ৫নং সাক্ষী বীরগঞ্জ উপজেলার সিংড়া গুচ্ছগ্রামের আহমেদ হোসেন (৩০) ও রফিকুল ইসলাম (৩৫) আদালতে হাজির হয়ে সাক্ষ্য প্রদান করেন। এই নিয়ে মোট ৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হল। 
আসামী মোসাব্বিরুল আলম খন্দকারের পক্ষে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য এ্যাডঃ আনিসুর রহমান চৌধুরী আইনজীবী নিযুক্ত হয়ে জামিনের আবেদন করেন। বিচারক জামিনের বিষয় শ্রবণ করে তার জামিন নামঞ্জুর করেন। আগামী ১৯ জুলাই পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য দিন ধার্য করে ৫ জন সাক্ষীকে আদালতে হাজির হয়ে সাক্ষ্য প্রদানের জন্য হাজির করতে গ্রেফতারী পরোয়ানার আদেশ দেন। 
সাক্ষীরা হলেন এই চাঞ্চল্যকর মামলার এজাহারকারী এসআই শাহাদত হোসেন, অভিযোগপত্রের তালিকাভুক্ত সাক্ষী বীরগঞ্জ উপজেলার সিংড়া গুচ্ছগ্রামের সিরাজুল ইসলামের পুত্র মোশাররফ হোসেন ও রফিকুল ইসলাম এবং একই উপজেলার প্রাণনগর গ্রামের মফিদুল হকের পুত্র ইমদাদুল হক ও রইস উদ্দীনের পুত্র মহিরউদ্দীন। 
 উল্লেখ্য যে, ২০১৫ সালের ১১ ডিসেম্বর সকাল ১০টায় বীরগঞ্জ উপজেলার সিংড়া গুচ্ছগ্রামে সিরাজুল ইসলামের বাড়ীতে একে৪৬ রাইফেল ও গুলিসহ অতর্কিত হামলা চালানোর সময় জনতা ধাওয়া করে ৪২ রাউন্ড গুলি ও ইউএসএ তৈরী একে৪৬ রাইফেলসহ শীর্ষ জেএমবির এহসার সদস্য মোসাব্বিরুল আলম খন্দকার (২৮)কে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। তার সহযোগী জেএমবির এহসার সদস্য শরিফুল ইসলাম (৩০)কে এই ঘটনার আগের দিন ১০ ডিসেম্বর রাতে কাহারোল উপজেলার জয়নন্দ ইসকন মন্দিরে হিন্দু সম্প্রদায়ের কীর্তন চলাকালীন সময়ে বোমা বিস্ফোরণ ও গুলিবর্ষণকালে জনতা অস্ত্রসহ আটক করে। এই ২ শীর্ষ জঙ্গীর বিরুদ্ধে পুলিশ বাদী হয়ে ২০১৫ সালের ১১ ডিসেম্বর বীরগঞ্জ থানায় অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করে। মামলাটি ডিবি পুলিশ তদন্তকালে আটক ২ জেএমবি সদস্য ঘটনার বর্ণনা দিয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেয়। এই মামলায় পুলিশ ২ জঙ্গীর বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে আদালতে অভিযোগপত্র পেশ করলে মামলাটি জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বিচার কাজ শুরু হয়। এই ২ জেএমবি সদস্যের বিরুদ্ধে দিনাজপুরসহ বিভিন্ন জেলায় প্রায় ২৪টি মামলা রয়েছে।