Home » » ফুলবাড়ীতে পুলিশের এএসআই মোস্তাফিজুরের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা

ফুলবাড়ীতে পুলিশের এএসআই মোস্তাফিজুরের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা

চিলাহাটি ওয়েব ডটকম News Editor : 19 May, 2017 | 11:56:00 PM

আফজাল হোসেন,ফুলবাড়ী প্রতিনিধি,চিলাহাটি ওয়েব : দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে যৌতুক লোভী স্বামীর বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে আদালতে মামলা দায়ের হয়েছে। যৌতুক লোভী স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা করলে ও গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী হলেও পুলিশের এএসআই মোস্তাফিজুর রহমানকে পার্বতীপুর থানার পুলিশ রহস্যজনক কারণে গ্রেফতার করছে না। বিচারের আশায় স্ত্রী মোছাঃ নাজমুন নাহার প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছে। দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার শিবনগর ইউপি’র পশ্চিম সমশেরনগর গ্রামের মোঃ নূর ইসলামের মেয়ে মোছাঃ নাজমুন নাহার (২২) এর সাথে পার্শ্ববর্তী পার্বতীপুর উপজেলার উত্তর মরনাই গ্রামের মোঃ মোকছেদ আলীর ছেলে মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান (২৭) এর সাথে ২১/০৮/২০১২ সালে পারিবারিক ভাবে বিবাহ হয়। ২২/০৮/২০১২ইং তারিখে অর্থাৎ বিবাহের পরের দিনই তার স্ত্রী নাজমুন নাহার এর নিকট ৩ লাখ টাকা ও একটি ডিসকভার মটর সাইকেল যৌতুকের দাবি করে স্বামী পুলিশের এএসআই মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান। পরে যৌতুকের টাকা আনার জন্য আরও চাপ সৃষ্টি করে এবং তাকে মারপিট করে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। পরে ০২/১১/২০১২ ইং তারিখে মোস্তাফিজুর রহমানের শ্বশুরবাড়িতে একটি গ্রাম্য বৈঠক হয়। বৈঠকে ৩ লাখ টাকা ও একটি ডিসকভার মোটর সাইকেল যৌতুক বাবদ দাবি করে। অন্যথায় তার স্ত্রীকে তালাক প্রদান করে অন্যত্র বিবাহ করবে। অবশেষে তার স্ত্রী মোছাঃ নাজমুন নাহার বাধ্য হয়ে দিনাজপুর প্রথম শ্রেণির জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আমলী আদালত-৫ আসামীর বিরুদ্ধে ১৯৮০ সালের যৌতুক বিরোধ আইনের ৪ ধারা মতে ২ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। যাহার মামলা নং ২৮০সি/২০১২। উক্ত মামলা দায়ের পর এএসআই মোস্তাফিজুর রহমান ঘর সংসার করিবেন মর্মে বিজ্ঞ আদালতে আপোষ নামা দাখিল পূর্বক বিজ্ঞ আদালত থেকে জামিন লাভ করেন ও মামলা টি নিষ্পত্তি হয়। পরে ৩ (তিন) বৎসর মোছাঃ নাজমুন নাহার এর সাথে ঘরসাংসার করেন। কিন্তু পরবর্তীতে আবারও যৌতুকের দাবি করে এবং কলোহ সৃষ্টি করে। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহের কারণে গত ১৮/০৩/২০১৬ ইং তারিখে দুপুর ১২টায় যৌতুক লোভী পুলিশের এএসআই মোস্তাফিজুর রহমান তাকে বাড়িতে বেধম মারপিট করে আহত করে এবং বাড়ি থেকে বাহির করে দেয়। এ খবর নাজমুন নাহারের পিতা জানতে পেরে মেয়েকে শ্বশুরবাড়ি থেকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য দিনাজপুর মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। হাসপাতালে ৭ দিন চিকিৎসা নিয়ে বাবার বাড়িতে ফিরে আসেন। সুস্থ্য হয়ে ১০/০৫/২০১৬ ইং তারিখে ফুলবাড়ী থানায় এএসআই মোস্তাফিজুর রহমান এর বিরুদ্ধে স্ত্রী নাজমুন নাহার মামলা করতে গেলে থানা কর্তৃপক্ষ তার মামলা গ্রহন না করায় অবশেষে ১১/০৫/২০১৬ তারিখে দিনাজপুরের জজ আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের (সংশোধিত/ ২০০৩) এর ১১(গ)/৩০ ধারায় আদালতে ২ জনকে আসামি করে একটি মামলা করেন। যাহার মামলা নং ৩৩৬/২০১৬। বাদিনীর মামলাটি বিজ্ঞ আদালত তদন্তের জন্য পার্বতীপুর উপজেলা আনসার ও ভিডিপির কর্মকর্তার নিকট পাঠালে তদন্ত সাপেক্ষে তার স্বামী এএসআই মোস্তাফিজুর রহমান এর বিরুদ্ধে অভিযুক্ত প্রমানিত হওয়ায় বিজ্ঞ বিচারক নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুন্যাল জজ আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। আদালত উক্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর ২৩/০৩/২০১৭ ইং তারিখে তাকে দোষী বলে সাব্যস্ত করেন। কিন্তু তবুও পার্বতীপুর থানার পুলিশ তাকে গ্রেফতার করছে না। মোছাঃ নাজমুন নাহার জানান, বর্তমানে পুলিশের এএসআই মোস্তাফিজুর রহমান দ্বিতীয় বিবাহ করে ঢাকায় কর্মরত আছেন এবং দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে ঘরসংসার করছেন। এব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পুলিশের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের হন্তক্ষেপ কামনা করেন। এ ব্যাপারে পার্বতীপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোস্তাক আহম্মেদের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বাদীনি এসেছিল কিন্তু আসামি এখানে নেই। জানা গেছে, ঢাকা হেট কোয়ার্টারে চাকুরী করছে। সেখানে সমন পাঠাতে হবে।
শেয়ার করুন :