Home » » মোবাইল কোর্ট চালু রাখার দাবীতে চিরিরবন্দরে র‌্যালী ও মানববন্ধন

মোবাইল কোর্ট চালু রাখার দাবীতে চিরিরবন্দরে র‌্যালী ও মানববন্ধন

চিলাহাটি ওয়েব ডটকম : 17 May, 2017 | 1:07:00 AM

দেলোয়ার হোসেন বাদশা, চিরিরবন্দর প্রতিনিধি,চিলাহাটি ওয়েব : দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে বাল্য বিবাহ ও যৌন হয়রানি প্রতিরোধে মোবাইল কোর্ট চালু রাখার দাবীতে র‌্যালী ও মানববন্ধন করেছে স্কুলের শিক্ষার্থীরা। গতকাল ১৬ মে মঙ্গলবার উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা র‌্যালী ও মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করে। তথ্যানুসারে জানা গেছে, মহামান্য হাইকোর্ট মোবাইল কোর্ট আইন বাতিল ঘোষনা করায় একশ্রেণির সুযোগ সন্ধানী ঘটক ও ব্যাক্তি দ্র“ত তা প্রচার করে বিয়ের যাবতীয় প্রস্তুতি ও বিবাহ সম্পন্ন করতে উঠে পড়ে লেগেছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলের কিছু অসচেতন ব্যাক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সরকারই ১৬ বছর বিবাহের বয়স নির্ধারণ করেছে। বিয়ে দিলে দোষ কী ? গত কয়েকদিনে অন্তত ৯টি বাল্য বিবাহের ঘটনা ঘটেছে। বিবাহ অনুষ্ঠানের সংবাদ দেয়া হলেও প্রশাসন মোবাইল কোর্ট বিধান বাতিলের অভিযোগ তুলে অসহায়ত্ব প্রকাশ করে বিবাহ বন্ধে কোন হস্তক্ষেপ করেনি। সবচেয়ে বেশি বিবাহ সংঘটিত হয়েছে গত ১২ মে শুক্রবার দিবাগত সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত। ওইদিন উপজেলার ভিয়াইল ইউনিয়নের জয়পুর পূর্বপাড়া গ্রামের মজিবর রহমানের নাবালিকা কন্যা জয়পুর ফতেহ আলী সিনিয়র মাদরাসার ৯ম শ্রেণির ছাত্রী মমিনা খাতুনের (১৪) বিবাহ হয়। আব্দুলপুর ইউনিয়নের হযরতপুর কবিরাজপাড়ায় তার ভগ্নিপতি মানিক হোসেনের বাড়িতে সন্ধ্যায়। এই বিয়েটি বন্ধ করার জন্য উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চাওয়া হলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ গোলাম রব্বানী মহামান্য হাইকোটের মোবাইল কোর্ট বিধান বাতিলের রায় জানিয়ে অসহায়ত্ব প্রকাশ করেন। একইদিন নান্দেড়াই নয়াপাড়া এলাকার আক্কাস আলীর মেয়ে আব্দুলপুর নান্দেড়াই মোহসেনা চৌধুরানী দাখিল মাদরাসার ৭ম শ্রেণির ছাত্রী আমিনা খাতুন (১৪), একই এলাকার জিকর“ল হকের মেয়ে ও একই মাদরাসার ৮ম শ্রেণির ছাত্রী জাকিয়া খাতুনের (১৪) বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়াও চিরিরবন্দর মহিলা কলেজের একাদশ প্রথম বর্ষের ছাত্রী তহমিনা খাতুন (১৭), একই কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী শারমিন আকতার (১৭), বেলতলী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সদ্য এসএসসি পাশকৃত ছাত্রী শরিফা আকতার (১৬), রুবিনা আকতারেরও (১৭) বাল্যবিবাহ সংঘটিত হয়েছে। এছাড়াও প্রশাসনের কাছে মুচলেকা দেয়া সত্ত্বেও মামুদপুর রসুলপুর দাখিল মাদরাসার ৭ম শ্রেণির ছাত্রী নুরজাহান আকতার, পুরান বিন্যাকুড়ি আলিম মাদরাসার ৯ম শ্রেণির ছাত্রী মলি¬কা আক্তার মিমিরও (১৫) বিয়ে স্থানীয় মৌলভী দ্বারা বিবাহ দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক নিকাহ রেজিষ্ট্রার জানান, আইনের বাধায় বাল্যবিবাহ নিবন্ধন না করলেও বিয়ে বন্ধ হচ্ছেনা। এক শ্রেণির ঈমাম ও পুরোহিতগন ধর্মমতে বিবাহ পড়াচ্ছেন। বাল্যবিবাহের হিড়িক প্রসংগে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ওবায়দুর রহমান জানান, সংবাদ পেলেই প্রশাসন ব্যবস্থা নিচ্ছে। গোপনে কোন বিয়ের সুস্পষ্ট প্রমানাদি পেলে বিয়ের পরও মামলা দায়ের করা হবে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ গোলাম রব্বানী জানান, মহামান্য হাইকোর্ট মোবাইল কোর্ট বাতিল করায় ওইসময় কিছু করার ছিলনা। সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ মাশফাকুর রহমান জানান, সমাজের ও রাষ্ট্রের কিছু জর“রী প্রয়োজনে ও বাল্যবিবাহ রোধ, যৌন হয়রানী প্রতিরোধ এবং মাদকসেবীদের বির“দ্ধে মোবাইল কোর্ট জর“রী হয়ে দাড়ায়। তাছাড়া ভেজাল বিরোধী অভিযান, প্রতারণা মূলক কার্যক্রম, ওজনে কম দেয়া, যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণসহ জরুরী প্রয়োজনে মোবাইল কোর্ট কার্যকর ভূমিকা রাখে। প্রশাসনের অসহায়ত্বের সুযোগে বাল্যবিবাহের হিড়িক পড়েছে।