Home » » চিরিরবন্দরে দুর্যোগের আতঙ্ক নিয়ে বোরো ধান কাটাতে ব্যস্ত কৃষক

চিরিরবন্দরে দুর্যোগের আতঙ্ক নিয়ে বোরো ধান কাটাতে ব্যস্ত কৃষক

চিলাহাটি ওয়েব ডটকম News Editor : 14 May, 2017 | 12:24:00 AM

দেলোয়ার হোসেন বাদশা, চিরিরবন্দর প্রতিনিধি,চিলাহাটি ওয়েব : প্রাকৃতিক দুর্যোগের আতঙ্ক নিয়ে দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে ব্যাপকহারে বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে। 
ছত্রাক জনিত নেক ব্লাস্ট রোগের প্রাদুর্ভাব খুব একটা বেশী প্রভাব না পড়লেও প্রাকৃতিক দূর্যোগের আতঙ্কে রয়েছে হাজারো কৃষক । কারন দিগন্ত মাঠ জুড়ে চলছে এখন বোরো ধান কাটার উৎসব। আকাশের গুমটে ভাব যেন দূর হচ্ছে না। এতে বড় ধরনের দুর্যোগের আশঙ্কায় রয়েছেন কৃষকরা। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর উপজেলায় ১৮ হাজার ৮শত ৪৯ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ হয়েছে। আর উপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭৩ হাজার মেট্রিক টন। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি মাঠে মাঠে সোনালি ধানের দোলা দেখে কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। কৃষকদের ঘরে ঘরে এখন নতুন ধানের উৎসব বিরাজ করছে। ব্যাস্ত সময় পার করছেন কৃষক ও কৃষাণীরা। 
কালবৈশাখী ঝড়ের আগেই কৃষকরা তাদের কষ্টের ফসলকে ঘরে নিতে চান। তবে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে আকাশে গুমটে ভাব কৃষককে বেশ চিন্তায় ফেলেছে। তারা শঙ্কায় আছেন কখন না জানি শিলা-বৃষ্টিতে তাদের সর্বনাশ ডেকে আনে। সাতনালা ইউনিয়নের মাষ্টারপাড়া গ্রামের কৃষক শাহীনুর, নজরুল, মমিনুল, সুদান, নশরতপুর ইউনিয়নের বেলাল, ফতেজংপুর ইউনিয়নের হাজীপাড়া গ্রামের ছমির, বাবলুসহ আরো অনেকে জানান, ছত্রাক জনিত নেক ব্লাস্ট রোগের প্রাদুর্ভাব দেখে দিলে আমরা খুব চিন্তিত ছিলাম। কিন্তু সঠিক সময়ে কৃষি উপ-সহকারীর দেয়া পরামর্শ অনুযায়ী প্রতিকার করায় ব্লাস্ট সংক্রমন থেকে ধানক্ষেতকে অনেকটাই রোগ মুক্ত করা হয়েছে। 
তারা আরো বলেন, তবে এবার ধানের পুরো মৌসুম জুড়ে আবহাওয়ার এ লুকোচুরি খেলা আমাদের শঙ্কিত করে তুলছে। উপজেলার তেতুঁলিয়া এলাকার কৃষক রমজান আলী বলেন, এবছর তিনি ৫ বিঘা জমিতে বোরো আবাদ করেছেন ইতোমধ্যে এক বিঘা জমির ধানকাটা হয়েছে। কিন্তু বৈরী আবহাওয়ায় কখন ঝড়-বৃষ্টি ধেয়ে আসবে বলা মুশকিল।
 তাই ঝড়-বৃষ্টি হলে কৃষকের ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। উপজেলা কৃষি অফিসার মো: মাহমুদুল হাসান জানান, বোরো ক্ষেতে এবারে ছত্রাক জনিত ব্লাস্ট রোগের প্রাদুর্ভাব প্রথমে আংশিক ভাবে দেখা দিয়ে ছিলো। তবে কৃষি বিভাগের সকল উপ-সহকারীরা কৃষকের পাশে থেকে লিফলেট ও প্রেসক্রিপশন সহ সব রকমের পরামর্শে চিরিরবন্দরে এ রোগের তেমন কোন প্রভাব পড়েনি। আশা করি উৎপাদনেও কোন প্রভাব পড়বে না । তিনি আরো বলেন, আবহাওয়ার এমন বিরুপ প্রভাবে সামনে বড় ধরনের ঝড়-বৃষ্টি বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে কৃষক বোরো আবাদে বেশ লাভবান হবেন।
শেয়ার করুন :