Home » » ট্রেন গেলো ট্রেনে কাটা পড়া মা-মেয়ের লাশের উপর দিয়ে !!

ট্রেন গেলো ট্রেনে কাটা পড়া মা-মেয়ের লাশের উপর দিয়ে !!

চিলাহাটি ওয়েব ডটকম News Editor : 14 May, 2017 | 12:44:00 AM

চিলাহাটি ওয়েব ডেস্ক : পঞ্চগড়ে রেল লাইনে পড়ে থাকা আত্মহত্যা কারিনী মা ও শিশুর লাশের উপড় দিয়ে ট্রেন চালিয়ে দেয়ায় এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পার্বতীপুর থেকে ছেড়ে আসা পঞ্চগড়গামী এই রান ওভার ট্রেনটিতেই সদর উপজেলার ধাক্কামারা ইউনিয়নের বকুল তলা এলাকায় মাত্র এক ঘন্টা আগে প্রতিবন্ধি শিশুকে রেল লাইনে ফেলে রেখে ট্রেনের সামনে ঝাপিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করেন মা। 
ঘটনার পরপরই হাজার হাজার এলাকাবাসি ঘটনাস্থলে জড়ো হয়। এসময় মা ও শিশুটির লাশ রেল লাইনেই পড়ে ছিল। ঘটনার এক ঘন্টা পর ট্রেনটি আবার পার্বতীপুর ফিরে যাওয়ার সময় স্থানীয়রা হাত তুলে ট্রেনটিকে থামানোর জন্য হাত উপড়ে তুলে চিৎকার করতে থাকেন। কিন্তু ট্রেনটি না থামিয়ে লাশের উপড় দিয়েই চালিয়ে দেন চালক। 
এতে পড়ে থাকা লাশ দুটি ছিন্ন বিছিন্ন হয়ে যায়। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। এলাকাবাসী জানান, ট্রেনটি ৫’শ গজ দুরে থাকতেই শত শত মানুষ হাত উচু করে চিৎকার করে থামতে বলে। কিন্তু তারা বিকট হর্ন বাজিয়ে লাশ দু’টির উপড় দিয়েই ট্রেনটি চালিয়ে দেয়। এই এলাকার জামেদুল ইসলাম জানান, ঘটনা স্থল থেকে পঞ্চগড় রেল ষ্টেশনের দুরত্ব মাত্র দেড় কিলোমিটার। ট্রেনটি পঞ্চগড় যাবার সময়ই আত্মহত্যার ঘটনাটি ঘটে। স্টেশন মাষ্টার এবং ঐ ট্রেনের চালক ঘটনাটি জানেন। জেনে শুনে তারা ট্রেন ছাড়া ঠিক করেননি। তিনি বলেন, অনেকের ক্যামেরায় দৃশ্যটি ধারন করা আছে। ঘটনাটি তদন্ত করে এই চালক এবং সংশ্লিষ্টদের বিচার হওয়া উচিৎ। এদিকে পঞ্চগড় রেল ষ্টেশনের ষ্টেশন মাষ্টার বজলুর রহমান জানান, আত্মহত্যা এবং রেল লাইনে পড়ে থাকা লাশের খবর তিনি জানেন না। এই ট্রেনটির গার্ড আব্দুর রহিমের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, লোকজন হাত উঁচিয়ে ট্রেনটি থামতে বলছিল। কিন্তু তাদের হাতে লাল পতাকা ছিলনা। তারপরও তাৎক্ষনিক লালমনির হাট বিভাগীয় রেলওয়ে অফিসে যোগাযোগ করা হলে কর্তৃপক্ষ আস্তে আস্তে ট্রেন চালিয়ে চলে আসতে বলেন। স্টেশন সূত্রে জানা গেছে পার্বতীপুর থেকে ছেড়ে আসা এই ট্রেনটি দুপুর ১ টায় স্টেশনে পৌছায়। আবার দুপুর দেড়টায় পার্বতীপুরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। উল্লেখ্য যে পারিবারিক কলহের জের ধরে গতকাল শনিবার দুপুরে পার্বতীপুর থেকে ছেড়ে আসা পঞ্চগড় গামী লোকাল ট্রেনের সামনে শিশুকে ফেলে রেখে মা ট্রেনের সামনে ঝাাঁপিয়ে পড়েন। 
এতে ঘটনা স্থলেই নিহত হন মা ও মেয়ে। নিহতরা হলেন আটোয়ারী উপজেলার বারো আউলিয়া গ্রামের অরুন বসাক এর মেয়ে শ্যামলী বসাক (২২) ও তার প্রতিবন্ধি শিশু মনি বসাক (২ বছর)। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায় পঞ্চগড় গামী চলন্ত ট্রেনটির সামনে নিহত ঐ মা শিশুটিকে রেল লাইনের উপড় ফেলে রেখে নিজে ঝাপিয়ে পড়ে। নিহত শ্যমলী বসাকের বাবা অরুন বসাক জানায় গত তিন বছর আগে ঠাকুরগাাঁও জেলার রাজাগাঁও ইউনিয়নের রুহিয়া আসানপুর এলাকার প্রদীপ সেনের সাথে বিয়ে হয় মেয়ে শ্যামলী বসাকের। বিয়ের একবছর যেতে না যেতেই নির্যাতনের স্বিকার হয়ে গর্ভাবস্থায় বাপের বাড়িতে ফিরে আসেন তিনি। গত দু বছর আগে একটি প্রতিবন্ধি সন্তানের জন্মদেন শ্যমলী বসাক। 
প্রতিবন্ধি শিশুটি জন্মের পর স্বামী ও শশুড় বাড়ির লোকজন তাকে গ্রহন করতে অস্বীকৃতি জানান। এ নিয়ে পঞ্চগড় জজ কোর্টে একটি মামলা বিচারাধিন রয়েছে। তার শিশুটির চিকিৎসার জন্য প্রতি সপ্তাহে পঞ্চগড় জেলা শহরের প্রতিবন্ধি হাসপাতালে যান তিনি। শনিবারও সকালে বাপের বাড়ির লোকজনকে সন্তানের চিকিৎসার কথা বলেই বের হন। ট্রেন লাইনের পাশে পড়ে থাকা শ্যামলী বসাকের ভ্যানিটি ব্যাগ পাওয়া যায়। ব্যাগের ভেতর রাখা পরিচয় পত্র ও সন্তানের টিকা কার্ড, মোবাইল সেট পাওয়া গেছে। গত দুই বছর থেকে তিনি একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা পরিচালিত স্কুলে শিক্ষকতা করছেন। 
অরুন বসাক জানান, পারিবারিক কলহের কারনেই তার মেয়ে শিশু কন্যাকে নিয়ে আত্মহত্যা করেছে। সহকারি পুলিশ সুপার সুদর্শন কুমার রায় ঘটনা স্থল পরিদর্শন করেছেন। তবে সহকারী পুলিশ সুপার সুদর্শন কুমার রায় গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
শেয়ার করুন :